Thursday, August 28, 2014

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৮]

RSI নামক একটি ইন্ডিকেটরের সাথে প্রায় সবাই পরিচিত হলেও সেই ইন্ডিকেটরটি অনেকেই মেটাট্রেডারে খুজে পান না। কারন মেটাট্রেডারে ইন্ডিকেটরটি রয়েছে Relative Strength Index নামে। Custom ইন্ডিকেটরের কালেকশন থেকে অবশ্য আপনি RSI খুজে পাবেন, কিন্তু মনের মত করে RSI এর ভ্যালুগুলো ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে Oscillators থেকে Relative Strength Index ইন্ডিকেটরটি সিলেক্ট করতে হবে।

কেন RSI?

একটি পেয়ারের অবস্থা কি সেটা অনেকটাই বোঝা যায় RSi ইন্ডিকেটরের সাহায্যে। পেয়ারটি ওভারবট (over-bought) নাকি ওভারসোল্ড (over-sold) সে সম্পর্কে আপনি ধারনা পেতে পারেন এই RSI ইন্ডিকেটর থেকে। বলে রাখা ভাল শুধু ওভারবট কিংবা ওভারসোল্ড দেখেই ট্রেড না দেয়াই ভাল। আপনি যদি ইন্ডিকেটর ব্যবহার করতে চান, ট্রেড সম্পর্কে নিশ্চিত হবার জন্য আপনাকে ব্যবহার করতে হবে কয়েকটি ইন্ডিকেটর। শুধু ১টি ইন্ডিকেটর দেখেই ট্রেডের সিদ্ধান্ত নেবেন না। ইন্ডিকেটরগুলো শুধুমাত্র মার্কেটের বিভিন্ন পরিস্থিতি আপনাকে বর্ণনা করে, তাই মার্কেটের পরবর্তী গতিবিধি সম্পর্কে আপনি ইন্ডিকেটর থেকে ধারনা নিতে পারেন, কিন্তু যদি মনে করেন ইন্ডিকেটর দেখেই ট্রেড দিয়ে দিবেন, নিজের অ্যানালাইসিস ছাড়া, তবে লসের সম্ভাবনাটাই বেশি হতে পারে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে

Over Bought (ওভারবট)

চার্টে ৭০ এর যে লেভেল লাইনটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটি হচ্ছে ওভারবট লাইন। এর ওপর RSi এর লাইনটি (চার্টে বেগুনি লাইন) থাকলে ধরে নেয়া হয় মার্কেট ওভারবট। অর্থাৎ, মার্কেটে বায়ারদের সংখ্যা বেশি। প্রাইস বাড়ছে, কিন্তু পেয়ারটি অতিরিক্ত মুল্ল্যায়িত হচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে থেকে এটি ভাল বোঝা যায়। ধরুন, কোন শেয়ারের দাম ১০০ থেকে বেড়ে হঠাৎ ১৭০ হয়ে গেল। ১৭০ এ যখন প্রাইস, তখন শেয়ারটি তার তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রয় হচ্ছে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় buyer রা বাই ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে সেল ট্রেডে দেয়। তাই প্রাইস কমে যায়। মার্কেট যখন ওভারবট থাকে, তখন বাই ট্রেড ক্লোজের জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করে সেলের জন্য ভাল পয়েন্ট খোজা শুরু করে বেশিরভাগ বুদ্ধিমান ট্রেডার। কিছু কিছু ট্রেডার অবশ্য ৭০ এর পরিবর্তে ৮০ লেভেলটি ব্যবহার করেন।

Over Sold (ওভারসোল্ড)

চার্টে ৩০ এর যে লেভেল লাইনটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটি হচ্ছে ওভারসোল্ড লাইন। এর নিচে RSi এর লাইনটি (চার্টে বেগুনি লাইন) থাকলে ধরে নেয়া হয় মার্কেট ওভারসোল্ড। অর্থাৎ, মার্কেটে সেলারদের সংখ্যা বেশি। পেয়ারটির প্রাইস তার তুলনায় অনেক বেশি কমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মার্কেট ওভারসোল্ড অবস্থায় থাকলে দেখা যায় পরবর্তীতে শীঘ্রই প্রাইস আবার বাড়তে শুরু করে। তাই মার্কেট যখন ওভারসোল্ড থাকে, তখন সেল ট্রেড ক্লোজের জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করে বাইয়ের জন্য ভাল পয়েন্ট খোজা শুরু করে বেশিরভাগ বুদ্ধিমান ট্রেডার। কিছু কিছু ট্রেডার অবশ্য ৩০ এর পরিবর্তে ২০ লেভেলটি ব্যবহার করেন।

Confirmation Line (কনফার্মেশন লাইন)

কিছু কিছু ট্রেডাররা অবশ্য ৭০ এবং ৩০ ছাড়াও একটি অতিরিক্ত ৫০ ভ্যালুর RSI লেভেল ব্যবহার করেন। এই ৫০ লেভেলটি সাধারনত বাই বা সেলের কনফার্মেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ট্রেডের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য RSI না ব্যবহার করাই উত্তম। আপনি বাই বা সেল করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে ট্রেড এন্ট্রি সঠিক হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য অন্যান্য ইন্ডিকেটরের পাশাপাশি আপনি RSi এর সহযোগিতা নেবেন।

RSI এর গঠনঃ

RSI ইন্ডিকেটরে ২টি সমান্তরাল লাইন থাকে। এদের আলাদা আলাদা ২টি ভ্যালু রয়েছে। সংখ্যাগুলো হচ্ছে ৩০ এবং ৭০. RSi এর লাইনটি যখন ৭০ ক্রস করে ওপরে উঠে যায়, তখন তাকে ওভারবট বলা হয় এবং তখন বাই করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থা থেকে প্রাইস আবার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এখান থেকে সেল করলে লাভের সুযোগ থাকে। আবার যখন RSi এর লাইনটি যখন ৩০ ক্রস করে নিচে নেমে যায়, তখন তাকে ওভারসোল্ড বলা হয় এবং তখন সেল করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থা থেকে প্রাইস আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এখান থেকে বাই করলে লাভের সুযোগ থাকে।
৫০ ভ্যালুর RSI লাইনটি চার্টে থাকে না। আপনাকে এটি অতিরিক্তভাবে যোগ করে নিতে হবে। Charts > Indicator list > Relative Strength Index > Edit > Levels > Add > 50 ভ্যালু দিন। তাহলে আপনি নিচের মত আপনার RSi চার্ট উইন্ডোতে দেখতে পাবেন।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে

RSI দিয়ে বাইয়ের সিদ্ধান্তঃ

বাস্তবে ট্রেড করতে গেলে সিদ্ধান্ত নেয়া অতটা সহজ নয়। কারন RSI এর লাইনটি ৩০ এর নিচে চলে আসলেই বাই করার জন্য তা নিরাপদ নয়। কারন ওভারসোল্ড অবস্থায় প্রাইস আরও কমতে পারে এবং অনেক সময় ওভারসোল্ড অবস্থায় অনেকদিন থাকতে পারে। তাই আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে RSI এর রেখাটি কখন ৩০ এর লাইনটি ব্রেক করে আবার ওপরে উঠবে। ৩০ ব্রেক করে উপরে উঠতে থাকলে আপনি বাই করতে পারেন। কিন্তু ৫০ ক্রস করে ওপরে উঠলে বাই করে প্রফিট করার সুযোগ বেশি থাকে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
চার্টে দেখুন ৩০ লাইনের নিচে RSI এর রেখাটি ছিল। ৩০ লাইন ক্রস করে যখন রেখাটি ৫০ ক্রস করে ওপরের দিকে উঠে, প্রাইসও পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে। আপনার কাছে যখন সম্ভাব্য ট্রেন্ড বাই মনে হবে, তখন যদি RSI এর রেখাটি ৫০ ক্রস করে ওপরে উঠে, তাহলে বাই করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

RSI দিয়ে সেলের সিদ্ধান্তঃ

RSI এর লাইনটি ৭০ এর ওপরে চলে আসলেই সেল করার জন্য তা নিরাপদ নয়। কারন ওভারবট অবস্থায় প্রাইস আরও বাড়তে পারে এবং অনেক সময় ওভারবট অবস্থায় অনেকদিন থাকতে পারে। তাই আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে RSI এর রেখাটি কখন ৭০ এর লাইনটি ব্রেক করে আবার নিচে নামবে। ৭০ ব্রেক করে নিচে নামতে থাকলে আপনি সেল করতে পারেন। কিন্তু ৫০ ক্রস করে নিচে নামলে সেল করে প্রফিট করার সুযোগ বেশি থাকে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
চার্টে দেখুন ৭০ লাইনের ওপরে RSI এর রেখাটি ছিল। ৭০ লাইন ক্রস করে যখন রেখাটি ৫০ ক্রস করে নিচের দিকে নামে, প্রাইসও পর্যায়ক্রমে কমতে থাকে।
আপনার কাছে যখন সম্ভাব্য ট্রেন্ড সেল মনে হবে, তখন যদি RSI এর রেখাটি ৫০ ক্রস করে নিচে নামে, তাহলে সেল করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৭]

অনেকদিন পর আবার টেকটিউনসে টিউন করা। অনেকে ফোন করে অভিযোগ করে বললেন কেন টেকটিউনসে টিউন করছি না। তাই আবার শুরু করলাম। আগের টিউনগুলো ছিল ফরেক্সের বেসিক এবং টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে। এখনকার বেশিরভাগ টিউন হবে ফান্ডামেন্টাল বিষয় নিয়ে। তাই ফরেক্স ট্রেডার ছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যাদের ভাল লাগে, তাদের কাছে টিউনগুলো ভাল লাগবে আশা করি।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই সেন্ট্রাল ব্যাংক রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিভিন্ন ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু এর প্রধান কাজ হল দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। আর সে জন্যই দেশের অর্থনীতি একটি সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে সেন্ট্রাল ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ গ্রহন করে। আর সেই পদক্ষেপগুলোই বিভিন্নভাবে ফরেক্স মার্কেটে নানা প্রভাব ফেলে।

সেন্ট্রাল/কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি?

দুজন ব্যক্তি ভালভাবেই সেন্ট্রাল ব্যাংকের সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন।
সেন্ট্রাল ব্যাংক হলো ঋণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল - অধ্যাপক হট্টে
সেন্ট্রাল ব্যাংক হলো একটি ঋণ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাংক - অধ্যাপক শ

তাই বলে এখনই ভেবে বসবেন না যে বন্ধু-বান্ধব টাকা ধার না দিলে সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাছে গিয়ে হাজির হবেন।  :-P

সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাজঃ

সেন্ট্রাল ব্যাংককে কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। যেমন সেন্ট্রাল ব্যাংকঃ
  • দেশে নোট ও মুদ্রার প্রচলন করে।
  • বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বদা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিসার্ভ বাড়ানোর কাজ নিয়ন্ত্রন করে। অন্য দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলোও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাপারে তাদের নীতিমালা ঠিক করে এবং বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করে।
  • মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা করে। দেশের অর্থনীতিতে সমতা বিধান ও মূল্যস্তর স্তিতিশীল রাখে। দেশের মুদ্রা বাজার গঠন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সংরক্ষণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকগুলোর কার্যাবলী নিয়ন্ত্রন করে এবং তাদের রিসার্ভ সংরক্ষণ করে থাকে। অন্যান্য সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলোও এভাবে অন্যান্য ব্যাংকগুলোর কিছু কার্যাবলী নিয়ন্ত্রন করে থাকে।
  • দেশের ঋণের পরিমাণ কাম্যস্তরে বজায় রাখে। অন্যান্য দেশ থেকে কি পরিমাণ ঋণ নেয়া হবে, কিভাবে খরচ হবে ইত্যাদি নির্ধারণ করে। ফিসকাল সমস্যা নিয়ন্ত্রনে পদক্ষেপ গ্রহন করে।
  • সেন্ট্রাল ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট নির্ধারণ করে।

ফরেক্স মার্কেটে প্রভাবঃ

মুদ্রা ছাপানোঃ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে সেন্ট্রাল ব্যাংক নোট এবং মুদ্রা ছাপায় এবং সংকট সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। আমরা যে কিছুদিন পর পর নতুন নতুন নোট দেখতে পাই, তা বাংলাদেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক - বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানেই হয়ে থাকে। যখন সরকার বন্ড বিক্রি করে লোণ পরিশোধ করতে পারেনা, তখন মুদ্রা ছাপিয়ে অবস্থা সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপানোর ফলে অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়ার সুযোগ থাকে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনঃ বাজারে অতিরিক্ত মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি বা Inflation বেড়ে যায়। এতে মুদ্রার মান কমে জায় এবং কারেন্সি দুর্বল হয়ে পরে। সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করে থাকে।
ইন্টারেস্ট রেট নির্ধারণঃ সেন্ট্রাল ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট নির্ধারণ করে থাকে। ইন্টারেস্ট রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে সেন্ট্রাল ব্যাংক নতুন ইনভেস্টরদেরকে মার্কেটে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী করে তোলে। ফলে ঐ দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং কারেন্সিও শক্তিশালী হয়। অপরদিকে ইন্টারেস্ট রেটের হার কমাতে থাকলে 'ইকনোমিক বাবল' হওয়ার সুযোগ থাকে।
ফিসক্যাল সমস্যা সমাধানঃ ফিসক্যাল বা জাতীয় ঋণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে সেন্ট্রাল ব্যাংক কাজ করে এবং নীতিমালা নির্ধারণ করে।
ক্যাশ রিসার্ভ রেশিওঃ ক্যাশ রিসার্ভ রেশিও নির্ধারণের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ব্যাংক মার্কেটে মানি সাপ্লাই নিয়ন্ত্রন করে।
এছাড়াও সেন্ট্রাল ব্যাংক নানা কাজ করে থাকে। ফরেক্স ইকনোমিক ক্যালেন্ডারে দেখবেন প্রায় প্রতিদিন সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন মিটিং থাকে। এসব মিটিংয়ে এই সকল বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ইন্টারেস্ট রেট বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বললে বা ইঙ্গিত দিলে বা মুদ্রা ছাপানোর কথা বললে তা কারেন্সিকে শক্তিশালী করে। এটাকে More hawkish than expected বলা হয়। ইন্টারেস্ট রেট কমানোর ব্যাপারে কথা বললে বা নেতিবাচক ইঙ্গিত দিলে তা কারেন্সিকে দুর্বল করে। এটাকে More Dovish than expected বলা হয়। এসব ইকনোমিক ইভেন্ট ফরেক্স মার্কেটে ভাল প্রভাব ফেলে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতিষ্ঠার সাল ও মুদ্রার নাম :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানার ধরন :

মজার বিষয় হল যে অনেক দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক সরকারী মালিকানাধীন নয়। এগুলো বেসরকারি কিংবা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাধীনও হয়ে থাকে। এমনকি আমেরিকার ফেডারেল রিসার্ভ সিস্টেমও একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাধীন।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৬]

একদিন আমার এক ফ্রেন্ড ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো মাঝে মাঝে দেখি মার্কেটে প্রাইস অনেক বাড়ে-কমে। আবার অনেক সময় দেখি কোনো মুভমেন্টই হয়না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কম্পিউটারের সামনে এত সময় বসে থাকতে বোরিং লাগে। যদি জানতাম কখন কখন বড় মুভমেন্ট হবে, তাহলে শুধু তখনই ট্রেড করতাম, আর বাকি সময় অন্য কাজ করা যেত কিংবা মুভি দেখা যেত।
আমি বললাম ফরেক্স মার্কেট সপ্তাহে ৫ দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। মার্কেট সবসময় ওপেন থাকে তার মানে এই নয় যে আমাদের সবসময় ট্রেড করা উচিত। কারন মার্কেট সবসময় সক্রিয় থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় মার্কেটে কোন নড়াচড়া নেই অর্থাৎ ভোলাটিলিটি নেই। আমরা ফরেক্সে প্রফিট করতে পারি যখন প্রাইস বাড়ে কিংবা কমে। কিন্তু যদি মার্কেটে তেমন একটা মুভমেন্টই না হয়, তাহলে প্রফিট হবে কিভাবে?
সে বলল, তাহলে আমরা ট্রেড করবো টা কখন? এরকম হবার কারন টা কি?
আমি তাকে বললাম যে, ফরেক্স মার্কেটে ২৪ ঘণ্টাকে আমরা প্রধানত ৪টা ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলো হল সিডনী সেশন, টকিয়ো সেশন, লন্ডন সেশন এবং নিউইয়র্ক সেশন। আমার কাছে নিউইয়র্ক সেশনটাই সবচেয়ে প্রিয়।
আমার ফ্রেন্ড এর উত্তরে আমাকে বলল, এগুলো তো শহরের নাম। বিডিপিপস চ্যাটে অনেককে এসবের নাম বলতে শুনেছি। অনেকেই বলে একটু পরেই নিউইয়র্ক সেশন শুরু হয়ে যাবে। আমি তো এসবের কিছুই বুঝি না।
আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম এই চারটা সেশন যখন শুরু হয়, তখন মার্কেটে অনেক ভোলাটিলিটি শুরু হয়। এর কারন হল একটি সেশন ওপেন হলেই সেই অঞ্চলে অনেক ব্যবসা-বানিজ্য, লেন-দেন ইত্যাদি শুরু হয়। অর্থনীতি সম্পর্কে বড় বড় নিউজ-সিদ্ধান্ত ঐ সময়েই নেয়া হয় অধিকাংশ সময়ে। তাই নতুন সেশন শুরু হলেই মার্কেটে বড়-সড় মুভমেন্ট/নড়াচড়া শুরু হয়ে যায়। নিচের চার্টটি ওকে দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশন কখন শুরু এবং শেষ হয়।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
ত্রিভুজ এবার বলল, গ্রীষ্মকাল (summer) আর শীতকালে (winter) ভিন্ন সময়ে সেশন ওপেন হয় কেন? আমি তাকে বললাম DST (Day-Light Saving Time) এর কথা মনে আছে যেটা বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে চালু হয়েছিল? ত্রিভুজ বলল, হ্যা। তখন তো আমাদের সময় আমরা ১ ঘণ্টা এগিয়ে দিয়েছিলাম। এবার আমি বললাম, পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোও তাদের কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকাল এবং শীতকালে ১ ঘণ্টা সময় পরিবর্তন করে। আর সে কারনেই আমাদের এখানেও বাংলাদেশ সময় অনুসারে সেশনগুলো ওপেন-ক্লোজের সময় পরিবর্তন হয়। এখানে BST দিয়ে Bangladesh Standard Time বোঝানো হয়েছে।
এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেকোনো সেশন ওপেন হলে যেহুতু মার্কেটে ভোলাটিলিটি বেড়ে যায়, ২টা সেশন একসাথে ওপেন থাকলে নিশ্চয়ই ভোলাটিলিটি আরও বেশি থাকে, মানে মুভমেন্ট আরও বেশি হয়?
এবার আমি বুঝলাম যে আমার বন্ধু আস্তে আস্তে ব্যাপারটা বুঝতে পারছে। আমি তাকে বললাম হ্যা, ব্যাপারটা ঠিক এইরকম। গ্রীষ্মকালে দুপুর ১:০০ থেকে দুপুর ৩:০০ পর্যন্ত টকিয়ো ও লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ করে এবং সন্ধ্যা ৬:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে। তাই এই সময়ে মুভমেন্টও থাকে বেশি। ট্রেড করার জন্য মোটামুটি আদর্শ সময়।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
এবার আমি ত্রিভুজকে এই চার্টটি দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশনে কোন পেয়ারের এভারেজ মুভমেন্ট কত পিপস। দেখা যায় লন্ডন সেশনেই সবচেয়ে বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। আর যেহুতু নিউইয়র্ক সেশন লন্ডন সেশনের সাথে ৪ ঘণ্টা ওভারল্যাপ করে, সেহুতু লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই ২টি সেশন ট্রেড করার জন্য আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে তাকে একটু বিস্তারিত ধারনা দিতে। ভাবলাম টকিয়ো সেশন দিয়েই তাহলে শুরু করা যাক।

টকিয়ো সেশন

বাংলাদেশ সময় ভোর ৬:০০ টায় টকিয়ো সেশন শুরু হয় এবং দুপুর ৩:০০ টায় টকিয়ো সেশন শেষ হয়। টকিয়ো সেশন এশিয়ান সেশন নামেও পরিচিত, কারন টকিয়ো হল এশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। আর জাপান হল পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম ফরেক্স ট্রেডিং সেন্টার। জাপানিজ ইয়েন হল পৃথিবীর ৩য় সর্বাধিক ট্রেডকৃত কারেন্সি। সব ফরেক্স লেনদেনের ১৬.৫০% লেনদেন হয় ইয়েনের। এবং সকল ফরেক্স লেনদেনের ২১% হয় এই টকিয়ো সেশনে।
টকিয়ো সেশনের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আমি ওকে বলেছিলাম। সেগুলো হলঃ
  • এই সেশনের যে শুধু জাপানের অবদান থাকে তাই নয়, হংকং, সিঙ্গাপুর, সিডনী ইত্যাদি অঞ্ছলেও অনেক অর্থনৈতিক লেনদেন হয় যা এই সেশনে প্রভাব ফেলে।
  • জাপান মূলত রপ্তানি নির্ভর দেশ। চায়নারও এখানে ভালো অবদান রয়েছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংক এবং এক্সপোর্টাররা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
  • মাঝে মাঝে মার্কেটে ভোলাটিলিটি এতও কমে যায় যে ট্রেডারদেরকে ট্রেড করার জন্য মাছ ধরার বরশি নিয়ে অপেক্ষা করার মত বসে থাকতে হয়।
  • মূলত এশিয়ান পেয়ারগুলোতে অন্য পেয়ারগুলোর তুলনায় বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। যেমন eur/usd, gbp/usd এর তুলনায় aud/usd, nzd/usd তে মুভমেন্ট বেশি হয়।
  • এই কম ভোলাটিলিটির সময় বেশিরভাগ পেয়ার একটি রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, যা কিনা দিনের পরবর্তী সময়ে ব্রেকআউট ট্রেডের সুযোগ সৃষ্টি করে।
  • এই সেশনের শুরুতেই সাধারনত মুভমেন্ট বেশি হয়, কারন তখনই অর্থনৈতিক নিউজগুলো বেশি পাবলিশ হয়।
  • টকিয়ো সেশনের মুভমেন্ট দেখেই ট্রেডাররা সাধারনত পরবর্তী সেশনে ট্রেড করার স্ট্রাটেজি ঠিক করে।
টকিয়ো সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ
এবার ত্রিভুজ বলল, অনেক কিছু জানা গেল। কিন্তু টকিয়ো সেশনে কোন কোন পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভালো হবে? এই সেশনে তো অন্যান্য পেয়ারগুলো থেকে এশিয়ান পেয়ারগুলোতে মুভমেন্ট বেশি হয়। তাহলে আমাদের সেইসব পেয়ার ট্রেড করা উচিত?
টকিয়ো সেশনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ড, জাপানের গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পাবলিশ হয়। এরফলে নিউজ ট্রেড করার একটু ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। JPY পেয়ারগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। চায়না কিন্তু আরেকটি অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার। তাই যখনই চায়না থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশিত হয়, তা ফরেক্স মার্কেটে ভালো ভোলাটিলিটি সৃষ্টি করে। টকিয়ো সেশনে JPY এবং AUD পেয়ারে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। তাই এই পেয়ারগুলো ট্রেড করার জন্য উত্তম।

লন্ডন সেশন

যখন এশিয়ান মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তার কিছুক্ষন পরই লন্ডন সেশন শুরু হয়। লন্ডন সেশন ইউরোপিয়ান সেশন নামেও পরিচিত। ইউরোপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মার্কেট রয়েছে, যদিও ট্রেডারদের চোখ বেশিরভাগ সময় থাকে লন্ডনের দিকে। গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১:০০ (শীতকালে দুপুর ২:০০) - টায় লন্ডন সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ১০:০০ (শীতকালে রাত ১১:০০) - টায় লন্ডন সেশন শেষ হয়।
ঐতিহাসিকভাবেই লন্ডন ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতি মিনিটেই হাজার হাজার ব্যবসায়ী এখানে লেনদেন করে। সর্বমোট লেনদেনের ৩০% হয়য় শুধুমাত্র এই লন্ডন সেশনেই।
টকিয়ো সেশনের মত লন্ডন সেশনেরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলঃ
  • লন্ডন সেশন ২টি গুরুত্বপূর্ণ সেশনের সাথে (টকিয়ো এবং নিউইয়র্ক) ওভারল্যাপ করে। অসংখ্য ফরেক্স লেনদেন এই সেশনে ঘটে। তাই দেখা যায় এই সময়ে মার্কেটে লিকুইডিটিও থাকে বেশি এবং পেয়ারগুলোতে স্প্রেডও থাকে তুলনামুলক ভাবে কম।
  • অসংখ্য লেনদেন এবং ট্রেড হবার কারনে লন্ডন সেশন হল সবচেয়ে বেশি ভোলাটাইল সেশন
  • দেখা যায় অধিকাংশ ট্রেন্ড লন্ডন সেশনে শুরু হয়য় এবং নিউইয়র্ক সেশনের শুরু পর্যন্ত চলতে থাকে।
  • এই সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ভোলাটিলিটি কিছুটা কমে যায়, কারন ট্রেডাররা নিউইয়র্ক সেশন শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
  • অনেকসময় দেখা যায় লন্ডন সেশনের শেষের দিকে ট্রেন্ড রিভার্স হয়ে যায়। কারন ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষের আগে তাদের ট্রেড প্রফিতে ক্লোজ করে দিতে চায়।
লন্ডন সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ
এবার ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো, নিশ্চয়ই লন্ডন সেশনে ইউরো আর পাউন্ডের পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভাল? আমি তাকে উত্তর দিলাম যেহুতু লন্ডন সেশনে অনেক বেশি ট্রেড হয়য়, তাই দেখা যায় এই সেশনে অনেক বেশি লিকুইডিটি থাকার কারনে প্রায় সব পেয়ারেই ট্রেড করা যায়। অবশ্যই মেজর পেয়ারগুলো ট্রেড করা জন্য ভালো যেমন - EUR/USD, GBP/USD, USD/JPY, USD/CHF, কারনে সেগুলোতে স্প্রেড কম থাকে। এবং এই পেয়ারগুলো দেখা ইউরোপিয়ান সেশনে যে নিউজগুলো আসে সেগুলো দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়। এছাড়া ইয়েন ক্রস পেয়ারগুলোও ট্রেড করা যায় বিশেষ করে EUR/JPY এবং GBP/JPY, কারন এই পেয়ারগুলো তখন কিছুটা ভোলাটাইল থাকে।

নিউইয়র্ক সেশন

লন্ডন সেশন চলতে চলতে যখন মার্কেটের ভোলাটিলিটি কিছুটা স্থির হয়ে আসে, তখন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬:০০ (শীতকালে সন্ধ্যা ৭:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ৩:০০ (শীতকালে রাত ৪:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শেষ হয়। এশিয়া এবং ইউরোপের মত, আমেরিকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেক্স মার্কেট। সব ট্রেডারদের দৃষ্টি থাকে নিউইয়র্ক সেশনের দিকে। নিউইয়র্ক সেশন আমেরিকান সেশন নামেও পরিচিত।
নিউইয়র্ক সেশনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলঃ
  • যেহুতু এই সেশনটি লন্ডন সেশনের সাথে ওভারল্যাপ করে, তাই এই সেশনের শুরুতে মার্কেটে লিকুইডিটি বেশি থাকে।
  • অধিকাংশ অর্থনৈতিক রিপোর্ট এবং নিউজ এই সময়ে প্রকাশ হয়। প্রায় ৮৫% ট্রেডগুলোই ডলার এর সাথে কোনো না কোন ভাবে সম্পর্কিত। তাই যখন কোন আমেরিকান ইকনোমিক ডাটা রিলিজ হয়, তা মার্কেটকে মুভ করাতে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করতে সক্ষম।
  • লন্ডন সেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, নিউইয়র্ক সেশনের শেষের দিকে মার্কেটে ভলাটিলিটি এবং লিকুইডিটি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মুভমেন্ট প্রায় থাকেনা বললেই চলে।
  • শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাতের দিকে মার্কেট প্রায় শান্ত হয়ে যায়। কারন পরেরদিন মার্কেট অফ থাকার কারনে জন্য মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক কম থাকে।
  • শুক্রবারে নিউইয়র্ক সেশনের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সময় প্রাইস রিভারস করতে দেখা যায়। কারন অনেক ট্রেডাররা মার্কেট হলিডের সময় কোন নিউজের প্রভাব উপেক্ষা করার জন্য সপ্তাহ শেষ হবার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।
নিউইয়র্ক সেশনে যেসব পেয়ার ট্রেড করা উচিতঃ
ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেহুতু এই সেশনে মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক বেশি থাকে, তাই নিশ্চয়ই প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়? আমি বুঝতে পারলাম ত্রিভুজ ফরেক্স মার্কেটের ট্রেডিং সেশনগুলো সম্পর্কে ভালো ধারনা অর্জন করে ফেলেছে। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। এই সেশনে প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়, কারন ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর এই সেশনে ডলারের বিভিন্ন ফান্ডামেন্টাল ডাটা রিলিজ হওয়ার কারনে দেখা যায় সবাই নিউজগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকে, কারন সবাই ডলার ভালবাসে। আর এই নিউজগুলো খারাপ আসুক কিংবা প্রত্যাশিত আসুক, ডলারের লাফালাফির কারনে তা মার্কেটকে নাটকীয়ভাবে প্রচণ্ড নাড়া দিতে পারে।

সেশনের ওপর সেশন - সেশন ওভারল্যাপঃ

ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো দিনের মধ্যে ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি? এবার আমি ত্রিভুজকে জিজ্ঞেস করলাম, বলতো টেলিভিশনে সবচেয়ে ভালো প্রোগ্রামগুলো কখন দেখায়? ত্রিভুজ উত্তর দিল- "ফ্যামিলি টাইম". আমি বললাম ঠিক তাই। কিন্তু কারণটা কি? ত্রিভুজ আমাকে উত্তর দিল কারন সেই সময়ে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে টেলিভিশন দেখে, তাই ভালো প্রোগ্রামগুলো প্রচার করা হয়। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। ফরেক্স মার্কেটের ক্ষেত্রেও একই রকম। মার্কেটে যখন ২টি সেশন ওভারল্যাপ করে, তখন মার্কেটে মুভমেন্টও বেশি হয়, তাই ট্রেড করার সুযোগও থাকে বেশি।
ফরেক্স মার্কেটে ২টি প্রধান সেশন ওভার ল্যাপ হলঃ
  • টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ
  • লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ

টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপঃ

টকিয়ো সেশনে মুভমেন্ট অন্য সেশনগুলোর তুলনায় খুব একটা বেশি হয়না। আর টকিয়ো-লন্ডন সেশন যখন ওভারল্যাপ করে, তখন টকিয়ো সময় অনেকটা বিকেল তাই মুভমেন্ট কমই থাকে। ট্রেড করার জন্য এই সময়টা কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেক নতুন ট্রেন্ড তৈরি হয় এই সময়ে, কিন্তু অনেক ট্রেডাররাই ট্রেন্ড কনফারমেশনের জন্য লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশনের জন্য অপেক্ষা করে।

লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপঃ

এই সেশন ওভারল্যাপ হল ট্রেড করার সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় ট্রেডাররা সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে মার্কেটের দিকে মনোনিবেশ করে। এই সেশন ওভারল্যাপ হল দিনের সবচেয়ে ব্যাস্ত সময়, কারন ২টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ট্রেডিং সেন্টার লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই সময় ওপেন থাকে।
এই সময় মার্কেটে অনেক বড় বড় মুভমেন্ট দেখা যায় বিশেষ করে যখন আমেরিকা এবং কানাডা থেকে নিউজ-রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়। ইউরোপ থেকে দেরিতে প্রকাশ হওয়া নিউজগুলোও ভালো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যদি লন্ডন সেশনে কোন ট্রেন্ড তৈরি হয়, তবে বেশিরভাগ সময় নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপের সময় তা কন্টিনিউ করতে দেখি। কারন আমেরিকান ট্রেডাররা সেদিন আগে কি হয়েছিল তা জেনে ট্রেড করতে ঝাপিয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ সময় পূর্বের ট্রেন্ড অনুসরন করে। এই সেশন ওভারল্যাপ শেষ হবার পর পরই দেখা যায় মার্কেটে মুভমেন্ট অনেক কমে যায়, কারন অনেক ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষে তাদের ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।

ট্রেড করার জন্য সপ্তাহের সেরা দিনগুলোঃ

ত্রিভুজ আমাকে বলল, সবশেষে যা বোঝা গেল, তা হল লন্ডন সেশনই হল ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে ব্যাস্ততম সেশন। আর তারসাথে যদি নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে, তবে তো কথাই নেই। কিন্তু ট্রেড করার জন্য কি বিশেষ কোন ভালো দিন রয়েছে? আমি তাকে বললাম হ্যাঁ। কিছু বিশেষ দিন রয়েছে যে দিনগুলোতে মার্কেট অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশীই মুভ করে।
সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে গড়ে কোন পিপস মুভমেন্ট হয় সেটা আমি ত্রিভুজকে এই চার্টের মাধ্যমে দেখাইঃ
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
ওপরের চার্ট থেকে দেখা যায় যে, সপ্তাহের মাঝের দিনগুলোতেই মুভমেন্ট বেশী হয়। সপ্তাহের এই দিনগুলোতেই সবচেয়ে বেশী পিপস মুভমেন্ট দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় সোমবার অনেক জায়গায় ব্যাংক হলিডে থাকে, নিউজ কম রিলিজ হয় কিংবা ট্রেডাররা নতুন সপ্তাহে কোনদিকে ট্রেন্ড মোড় নিবে তা ঠিক করতে না পেরে ট্রেড কম করে। ওপরদিকে শুক্রবার অনেকেই বিকেলের পর ট্রেড করে না পরেরদিন মার্কেট হলিডে থাকায়। সেই অর্থে শুক্রবার মার্কেট বলা যায় অর্ধেক সময় অ্যাকটিভ থাকে।

সময়কে সঠিকভাবে ম্যানেজ করাঃ

আমি এবার ত্রিভুজকে বললাম নিশ্চয়ই এবার ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে ধারনা পরিস্কার হয়েছে? ত্রিভুজ উত্তর দিল, হ্যাঁ। এখন থেকে আমি সব ফরেক্স সেশন এবং সেশন ওভারল্যাপের দিকে নজর রাখব। আমি তাকে বললাম আমরা তো ভ্যাম্পায়ার নই যে সব সেশনগুলোতেই ট্রেড করতে পারবো। আর যদি পারি, কেনই বা করবো? ফরেক্স মার্কেট ২৪ ঘন্টা ওপেন থাকে তার মানে এই নয় যে ২৪ ঘণ্টাই ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর যদি থাকেই, কেনই বা আমরা সবসময় ট্রেড করবো? আমাদের শুধু ভালো ট্রেডের সুযোগ পেলেই ট্রেড করা উচিত।
আমাদের সুস্থভাবে জীবন-যাপনের জন্য বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। সবসময় ট্রেড করার জন্য কম্পিউটারের সামনে না বসে মাঝে মাঝে সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে এবং খেতে যাওয়া উচিত। ত্রিভুজ আমাকে বলেছে সে ফরেক্স থেকে প্রথম প্রফিট যেদিন করবে, সেদিন আমাকে ভালো রেস্টুরেন্টে ব্যুফে খাওয়াবে। আর আপনারাও যদি ত্রিভুজকে ফরেক্স সম্পর্কে বোঝানোর ফাকে কিছু শিখে ফেলতে পারেন এবং তা দিয়ে প্রফিট করতে পারেন, তবে আমাকে ভুলে যাবেননা কিন্তু! ;)

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৫]

ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কি?
What the HELL is Trading Strategy?
ট্রেডিং স্ট্রাটেজি মানে হল আপনি কিভাবে ট্রেড করবেন। আপনার সম্পূর্ণ ট্রেডিং প্লান। আপনার ট্রেড করার অবশ্যই একটি নিয়ম থাকা উচিত। তাই আপনি বাই করুন, অথবা সেল করুন তার একটা কারন অবশ্যই থাকতে হবে। আপনি যেই ট্রেডিং স্ট্রাটেজি অনুসরন করবেন, তাই আপনাকে বলে দিবে এখন আপনার বাই করা উচিত না সেল করা উচিত, অথবা এখন ট্রেড করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজির নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকতে হবেঃ
  • কখন বাই-সেল করবেন অথবা ট্রেড থেকে বিরত থাকবেন
  • কি পরিমান ভলিউমে/লটে ট্রেড করবেন
  • কি পরিমান রিস্ক নিবেন প্রতিটি ট্রেডে
  • স্টপ লস/টেক প্রফিট/ট্রেইলিং স্টপ কত ইউজ করবেন
  • একসাথে সর্বোচ্চ কতগুলো ট্রেড করবেন
  • কেন ট্রেড করবেন? কেন বাই করবেন? কেন সেল করবেন?
আমরা একেকজন একেকভাবে ট্রেড করি। কেউ ইন্ডিকেটর দেখে ট্রেড করি, কেউবা প্রাইস অ্যাকশান দেখে ট্রেড করি, কেউ আবার আন্দাজে প্রাইস বাড়া-কমা দেখে ট্রেড করি। কিন্তু আপনার যদি একটি ট্রেডিং স্ট্রাটেজি থাকে, তাহলে আপনার আর এরকম দ্বিধা থাকবেনা যে এখন কি বাই করবো না সেল করবো? কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবেনা, অথবা কার কাছ থেকে সিগন্যাল নিতে হবেনা। কারন আপনি তখন জানেন কিভাবে সিগন্যাল বানাতে হয়। আপনি নিজেই সিগন্যাল বানাতে পারবেন এবং আরেকজনকে দিতে পারবেন (সে লস করলে কিন্তু আপনাকেই দোষ দিবে)।
যেহুতু আমরা প্রায় সবাই ইন্ডিকেটর ফলো করে ট্রেড করি, তাই প্রথমে ইন্ডিকেটর বেসড ট্রেডিং স্ট্রাটেজির কথাই বলা যাক।
উদাহরণ ১
নিচের চার্টটি দেখুন। এখানে একটি লাল লাইন দেখা যাচ্ছে। এটা হল মুভিং এভারেজের লাইন। ধরুন এটাই আমাদের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি। মুভিং এভারেজ আমাদের মার্কেট ট্রেন্ড নির্দেশ করে। লাল লাইনের ওপরে যখন ক্যানডেল থাকে তখন বাই সিগন্যাল, আর যখন ক্যানডেল লাল লাইনের নিচে থাকে তখন সেল সিগন্যাল।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
আপনি একটি ট্রেড করলেন, প্রফিটও হল। (সবসময় যে কাজ করবে তা নয়। কিভাবে সিগন্যাল আরও রিস্ক ফ্রি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পরে আলোচনা করবো) এখন যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে, বাই দিলেন কেন? সেল কেনো দিলেন না? তখন আপনার উত্তর হবে আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি। আপনার স্ট্রাটেজি আপনাকে বলেছে বাই করতে। এখন থেকে আপনাকে আর আন্দাজে ট্রেড করতে হবে না। আপনার এই ট্রেডিং স্ট্রাটেজি আপনাকে বলে দিবে এখন বাই করুন, এখন সেল করুন। আপনি সেভাবে ট্রেড করবেন। অন্তত আন্দাজে ট্রেড করার থেকে কি এটা ভাল নয়?
উদাহরণ ২
এবার আমরা মুভিং এভারেজের সাথে আরেকটা ইডিকেটর যোগ করে সিগন্যালটাকে ফিল্টার করে আরও পারফেক্ট করার চেষ্টা করবো।
নিচের চার্টে দেখুন। চার্টে প্যারাবোলিক ইন্ডিকেটর যোগ করা হয়েছে। এখন থেকে যদি ২টি ইন্ডিকেটর বাই করতে বলে তবেই আমরা বাই করবো, আবার ২টি ইন্ডিকেটর যদি সেল করতে বলে, তবেই আমরা সেল করবো। কিন্তু যদি ২টি ইন্ডিকেটর ভিন্ন ভিন্ন সিগন্যাল দেখায়, তবে ট্রেড করা থেকে বিরত থাকবো। প্যারাবোলিক ইন্ডিকেটরে ডট যখন ক্যানডেলের নিচে থাকে তা তখন বাই নির্দেশ করে, আর ডট যখন ক্যানডেলের ওপরে থাকে তখন তা সেল নির্দেশ করে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
দেখুন মুভিং এভারেজ লাল দাগের ওপরে। আবার প্যারাবোলিকও ক্যানডেলের নিচে ডট দেখাচ্ছে। তারমানে ২টাই বাই নির্দেশ করছে। তাহলে এখন বাই করার পক্ষে যুক্তি বেশি।
এগুলো শুধু মাত্র উদাহরণ। বোঝার সুবিধার্তে এভাবে দেখানো হয়েছে।
ট্রেড থেকে এক্সিটঃ
ট্রেড তো ওপেন করা হল, প্রফিটও হচ্ছে। কিন্তু কথা হল ট্রেড ক্লোজ করবো কখন? কত প্রফিটে ক্লোজ করবো? ১০ পিপস? ৫০ পিপস না ১০০ পিপস? কিংবা ট্রেড লসে চলে যাচ্ছে, কত লসে ক্লোজ করবেন? ১০ পিপস লসেই কি ক্লোজ করে দিবেন? না ২০০ পিপস লস পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? তাই অবশ্যই আপনার ট্রেড থেকে এক্সিট হওয়ার একটি নিয়ম দরকার।
এটা নির্ভর করে আপনার মানি ম্যানেজমেন্টের ওপর। ধরুন আপনি $১০০০ ডিপোজিট করেছেন। আপনি চান আপনার প্রতিটি ট্রেডে সর্বোচ্চ ৫% রিস্ক নিতে। তাহলে আপনি প্রতি ট্রেডে সর্বোচ্চ $৫০ লস করতে রাজি আছেন। তাহলে আপনি যদি ৫০ পিপস স্টপ লস সেট করতে চান। পিপস ভ্যালু $১ সেট করতে হবে। আবার যদি ১০০ পিপস স্টপ লস সেট করতে চান তাহলে পিপস ভ্যালু ৫০ সেন্ট সিলেক্ট করতে হবে।
এবার প্রসঙ্গে আসি কেন ট্রেড ক্লোজ করবেন।
  • একটি কারণ হতে পারে আপনি আপনার টার্গেট অনুযায়ী প্রফিট পেয়ে গেছেন এই ট্রেড থেকে। তাই আর প্রফিট দরকার নেই। ট্রেড ক্লোজ করে দিন।
  • আরেকটি কারণ হল এখন ট্রেন্ড পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আপনার লাভ কমে যেতে পারে অথবা লস আরও বাড়তে পারে। তাই পুরনো ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে নতুন ট্রেন্ড ধরতে চেষ্টা করুন। লসের ট্রেড লাভে আসবে এরকম আশা করে অনেক লস শিকার করাটা অনেক সময় বোকামি। ট্রেডিং স্ট্রাটেজি মেনে চলুন।
স্টপ লস সেট করার নিয়মঃ
  • আপনি সাপোর্ট-রেসিসট্যান্স-পিভট পয়েন্টের অনুযায়ী স্টপ লস সেট করতে পারেন
  • ফিক্সড ৩০/৫০/১০০ পিপস সেট করতে পারেন। যদিও এ ধরনের স্টপ লস অধিকাংশ সময় আপনার ট্রেড লসে ক্লোজ হবার কারণ হিসেবে দেখা দেয়।
টেক প্রফিট সেট করার নিয়মঃ
  • আপনি সাপোর্ট-রেসিসট্যান্স-পিভট পয়েন্টের অনুযায়ী টেক প্রফিট সেট করতে পারেন
  • ফিক্সড ৩০/৫০/১০০ পিপস সেট করতে পারেন।
  • ট্রেইলিং স্টপ হিসেবে ১৫/২৫/ইত্যাদি সংখ্যক পিপস সেট করতে পারেন। ট্রেইলিং স্টপ নিজে নিজেই আপনার ট্রেডে প্রফিট বাড়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যক পিপস দূরত্ব রেখে ট্রেড লাভে ক্লোজ হবার পয়েন্ট সেট করবে।
একসাথে সর্বোচ্চ কতগুলো ট্রেড করবেন?
এটা আপনার ট্রেডিং সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে যে একসাথে আপনি কতগুলো ট্রেড করবেন। মনে রাখবেন, একসাথে আপনি যেন কোনভাবেই  ৫% এর বেশি রিস্ক নিয়ে ট্রেড না করেন। যদি আপনি একসাথে বিভিন্ন পেয়ার নিয়ে ট্রেড করতে চান, তাহলে লক্ষ করবেন যে সবগুলো ট্রেডের রিস্ক যেনও সব মিলিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টের ৫% এর বেশি না যায়। মোট কথা, বেশি লস হবার কোন সুযোগ দিবেন না।
শেষকথাঃ
এখন আপনি জানেন কিভাবে ট্রেড করতে হবে। কখন বাই করবেন, কিংবা কখন সেল করবেন। কখন ট্রেড লসে ক্লোজ করতে হবে, বা কতটুকু লাভ নিয়ে ট্রেড ক্লোজ করা উচিত। এগুলো সবকিছু নিয়েই আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি। ট্রেডিং স্ট্রাটেজি না মেনে ট্রেড করবেন, মানে আপনি লসের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবেন। এখন আপনিও ফরেক্সের অস্ত্রাগার থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রগুলো বেছে নিয়ে আপনার নিজের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি তৈরি করে ফেলুন। অন্যদের স্ট্রাটেজিগুলো টেস্ট করুন এবং যেগুলো ভাল সেগুলো নিজেরটার সাথে যোগ করে আরও ডেভেলপড স্ট্রাটেজি তৈরি করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। কোন প্রশ্ন থাকলে বা কিছু না বুঝলে প্রশ্ন করতে পারেন।
কিছু ট্রেডিং স্ট্রাটেজিঃ

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৪]

ইন্ডিকেটর কি?

ইন্ডিকেটর এক ধরনের নির্দেশক, যা আপনাকে প্রাইস বাড়বে কি কমবে নির্দেশ করে। যদি আপনার অজানা থাকে যে প্রাইস কি বাড়তে পারে কিংবা কমতে পারে, তবে ইন্ডিকেটর আপনাকে সে ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এটা বিভিন্ন সিগন্যাল দেখায় যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে পরবর্তীতে প্রাইস বাড়বে না কমবে এবং সে অনুসারে ট্রেড করতে পারেন। এছাড়া অনেক ইন্ডিকেটর মার্কেট ট্রেন্ড বুঝতেও আপনাকে সাহায্য করবে।
মনে রাখবেন ইন্ডিকেটর কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ফর্মুলা দিয়ে কাজ করে। তাই আপনি যে সব সময় সঠিক সিগন্যাল পাবেন তা নয়। অনেক সময় ভুল সিগন্যাল আসতে পারে। আবার ফান্ডামেন্টাল নিউজের কারনে ইন্ডিকেটরের সিগন্যাল অনেক সময় কাজ করবে না। তাই অন্ধভাবে ইন্ডিকেটর অনুসরন না করে নিজের অ্যানালাইসিসকে এর সাথে কাজে লাগিয়ে ট্রেড করুন।
অনেক ইন্ডিকেটর রয়েছে। মেটাট্রেডারে ডিফল্টভাবে কিছু ইন্ডিকেটর দেয়া থাকে। যেমনঃ Bollinger Bands, Moving Average, parabolic Sar ইত্যাদি। এছাড়াও অনলাইনে হাজার হাজার ইন্ডিকেটর ফ্রি পাওয়া যায়। আপনি সেগুলো মেটাট্রেডারে যোগ করে নিতে পারবেন। গুগলে Forex indicator লিখে সার্চ করলেই অনেক ইন্ডিকেটর পাবেন। এছাড়া বিডিপিপসের "ফরেক্স ইন্ডিকেটর" সেকশনে অনেক ইন্ডিকেটর রয়েছে। যেকোনো ইন্ডিকেটর প্রথমে ডেমোতে টেস্ট করে দেখুন। ফলাফল ভাল লাগলে তারপর রিয়েল ট্রেডে ব্যবহার করুন।
ফরেক্সে প্রফিট করার অনেক উপায় রয়েছে। আর আপনি যখন ইন্ডিকেটর নিয়ে কাজ করবেন, এরা আপনার ট্রেডিং টুলবক্সে একেকটি ভিন্ন ভিন্ন টুলস হিসেবে কাজ করবে। আপনার হয়তো ইন্ডিকেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে, কারন হয়ত আপনি নিজেই অনেক ভাল মার্কেট অ্যানালাইসিস করতে পারেন অথবা আপনার আগে থেকেই পছন্দের ইন্ডিকেটর রয়েছে। কিন্তু নতুন নতুন টুলস আপনার ট্রেডিংকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আপনি আরও ভালভাবে অ্যানালাইসিস করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু খুব বেশি ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করাই ভাল। ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডিকেটর হয়তো আপনাকে আরও দ্বিধাগ্রস্থ করে তুলবে।
আমরা এখানে যেসব ইন্ডিকেটর নিয়ে আলোচনা করব তা হলঃ
  • Bollinger Bands
  • Moving Average
  • RSI
  • ADX
  • Parabolic Sar
  • Stochastic
শুধুমাত্র একটি ইন্ডিকেটর কখনো অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। কমপক্ষে ২-৩ টি ইন্ডিকেটর দেখে অ্যানালাইসিস করে ট্রেডের প্রস্তুতি নিন। ইন্ডিকেটর অনেক সময় ভুল সিগন্যাল দেয়।

Bollinger Bands

মার্কেট ভোলাটিলিটি অনুধাবন করার জন্য Bollinger Bands ইন্ডিকেটরটি ব্যবহার করা হয়।
এই ছোট টুলসটি আমাদের বলে দিবে যে মার্কেট কি এখন শান্ত না অশান্ত। যখন মার্কেট শান্ত থাকে তখন ব্যান্ড ২টি সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন মার্কেট অশান্ত থাকে তখন ব্যান্ড ২টি প্রশস্ত হয়ে যায়।
নিচের চার্টটি দেখুন। যখন মার্কেট শান্ত ছিল, তখন ব্যান্ড ২টি কাছাকাছি ছিল। কিন্তু যখন প্রাইস খুব দ্রুত বেড়ে গেছে অর্থাৎ মার্কেট অশান্ত হয়ে গেছে, তখন ব্যান্ড ২টি দূরে সরে গেছে।

Bollinger Bounce:

Bollinger Bands সম্পর্কে একটি ব্যাপার আপনার জেনে রাখা দরকার যে প্রাইস অধিকাংশ সময় ব্যান্ডের মাঝখানে ফিরে আসে। এটাই হল Bollinger Bounce এর আসল আইডিয়া। নিচের চার্টটি দেখে কি আপনি বলতে পারেন যে প্রাইস পরবর্তীতে কোথায় যেতে পারে?

এখন আপনি যদি বলে থাকেন যে দাম কমবে তাহলে আপনার উত্তর সঠিক। নিচের চার্টে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে প্রাইস কমে গেছে এবং প্রাইস ব্যান্ড ২টির মাঝখানে চলে এসেছে।

আপনি এখন যেটা দেখলেন সেটা হল Bollinger Bounce. এরকম বাউন্স হবার কারন হল Bollinger bands এর ব্যান্ড ২টি ডাইনামিক সাপোর্ট এবং রেসিসট্যান্স লেভেল হিসেবে কাজ করে।
আপনি যত বড় টাইমফ্রেম ব্যবহার করবেন, ব্যান্ডগুলো তত শক্তিশালি হবে। মার্কেট যখন একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং কোন নির্দিষ্ট ট্রেন্ড থাকে না, তখন এই স্ট্রাটেজীটি ভাল কাজ করে।

Bollinger Squeeze:

যখন ব্যান্ড ২টি খুব বেশি সংকুচিত হয়ে যায় তখন এটি সাধারনত নির্দেশ করে যে সম্ভবত ব্রেকআউট হতে যাচ্ছে।
যদি ক্যানডেল ওপরের ব্যান্ডটিকে ব্রেক করে ওপরে উঠে যায় তবে সাধারনত প্রাইস আরও ওপরে উঠতে থাকে অর্থাৎ প্রাইস বাড়তে থাকে। আর যদি ক্যানডেল নিচের ব্যান্ডটিকে ব্রেক করে নিচে নামতে থাকে, তাহলে প্রাইস আরও নিচে নামতে থাকে অর্থাৎ প্রাইস কমতে থাকে।

ওপরের চার্টটি দেখুন। ব্যান্ড ২টি সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রাইস ওপরের ব্যান্ডটি ব্রেক করে ওপরে উঠে যাচ্ছে। এই চার্টের ওপর ভিত্তি করে আপনি কি মনে করেন প্রাইস কি বাড়বে না কমবে?

আপনি যদি বলে থাকেন যে প্রাইস বাড়বে তাহলে আপনি সঠিক। এভাবেই সাধারন Bollinger Squeeze কাজ করে।
এরকম ট্রেডের সুযোগ আপনি প্রতিদিন পাবেন না। কিন্তু ১৫ মিনিটের চার্টে আপনি সপ্তাহে কয়েকবার এরকম ট্রেডের সুযোগ পেতে পারেন।
Bollinger bands দিয়ে বিভিন্ন ভাবে ট্রেড করা যায়। কিন্তু এই ২টি হল Bollinger Bands দিয়ে ট্রেড করার সবচেয়ে সহজ এবং সাধারণ ট্রেডিং স্ট্রাটেজী।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১৩]

পিভট পয়েন্ট

পিভট পয়েন্ট কি?

বাই-সেল সিগন্যাল নির্ধারণ করার জন্য পিভট পয়েন্ট ফরেক্সে অনেক জনপ্রিয় একটি মেথড। রিভার্সাল পয়েন্ট (যেখানে গিয়ে প্রাইস বিপরীত দিকে ফিরে আসে) চিহ্নিত করার জন্য ট্রেডাররা পিভট পয়েন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
পিভট পয়েন্টে চার্টটিকে কয়েকটি সেকশনে ভাগ করা হয়। মাঝের পয়েন্টটি হল পিভট পয়েন্ট (PP)। পিভট পয়েন্টের ওপরে প্রাইস থাকলে মার্কেট বুল্লিশ (মার্কেটের গতিবিধি ঊর্ধ্বমুখী) এবং পিভট পয়েন্টের নিচে প্রাইস থাকলে মার্কেট বিয়ারিশ (মার্কেটের গতিবিধি নিম্নমুখী)। R1, R2 এবং R3 হল রেসিসট্যান্স লেভেল এবং পিভট পয়েন্টের (PP) অপরে থাকে। S1, S2 এবং S3 হল সাপোর্ট লেভেল এবং পিভট পয়েন্টের (PP) নিচে থাকে।

এখানে,
  • PP = Pivot point (পিভট পয়েন্ট)
  • S = Support (সাপোর্ট)
  • R = Resistance (রেসিসট্যান্স)

কিভাবে পিভট পয়েন্ট হিসাব করা হয়ঃ

পিভট পয়েন্টের ক্ষেত্রেঃ
  • High = গতকাল প্রাইস সর্বোচ্চ যে প্রাইসে গিয়েছে
  • Low = গতকাল প্রাইস সর্বনিম্ন যে প্রাইসে গিয়েছে
  • Close = গতকাল মার্কেট যে প্রাইসে ক্লোজ হয়েছে
ক্যালকুলেশনঃ

R3 = High + 2 x (PP – Low)
R2 = PP + (High – Low) = PP + (R1 – S1)
R1 = (PP x 2) – Low
PP = (High + Low + Close) / 3
S1 = (PP x 2) – High
S2 = PP – (High – Low) = PP – (R1 – S1)
S3 = Low – 2 x (High – PP)
আপনি এখন কষ্ট করে High, low এবং close বের করে পিভট পয়েন্ট বের করতে পারেন। অথবা পিভট পয়েন্ট ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে High, low এবং close সহজেই ডাটাগুলো বের করে নিতে পারেন। এছাড়া কিছু পিভট ইন্ডিকেটর রয়েছে, যেগুলো আপনার চার্টেই পিভট পয়েন্ট দেখিয়ে দেবে। এজন্য ইন্ডিকেটর বিভাগটি দেখুন।

কিভাবে পিভট পয়েন্ট ব্যবহার করে ট্রেড করবেনঃ

ব্রেকআউট ট্রেডিং
ব্রেকআউট হলে আপনি যেভাবে ট্রেড করেন, এখানেও তা ঠিক সেভাবেই কাজ করবে। প্রাইস যদি পিভট লাইনকে ক্রস করে এবং সেদিকে ক্লোজ হয়, তবে সাধারনত প্রাইস সেদিকেই যেতে থাকে। নিচের চার্টটি দেখুনঃ

সবুজ জায়গাটি বোঝাচ্ছে যে প্রাইস প্রথমে পিভট পয়েন্টের নিচে ছিল এবং সবুজ জায়গা থেকে পিভট লাইন অতিক্রম করে ওপরের দিকে উঠেছে।
যখন পিভট লাইন ভেঙ্গে যায়, তার মানে হল যে প্রাইস এখন সেদিকে যেতে শুরু করবে। ব্রেকআউট ট্রেড করার উপায় হল, ব্রেক হবার পরেই সেই দিকে ট্রেড ওপেন করা। আপনি যখন ট্রেড ওপেন করবেন, তখন আপনি ব্রোকেন লাইনের ঠিক বিপরীতে স্টপ লস সেট করবেন এবং টেক প্রফিট হবে পরবর্তী লাইন।

ওপরের চার্টটি দেখুন। ট্রেড ওপেন করা হয়েছিল ২.০৫৫০ (সবুজ লাইন) প্রাইসে। স্টপ লস সেট করতে হবে ১.০৫৩৫ এ পিভট পয়েন্টের (লাল লাইন) নিচে। আপনার টেক প্রফিট হবে ১.০৫৯৪ এর R1 এর আশেপাশে।
এই ট্রেডটি মাত্র ৪০ পিপসের ছিল। খুব বেশী উত্তেজিত হবার কোন কারন নেই। কারন এগুলো সবসময় কাজ করে না। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের অন্য কোন কিছুর সাথে আপনি এটাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আরেকটু নিশ্চিত হতে পারনে যে আপনি ভুল ট্রেড করতে যাচ্ছেন না।
রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং
রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং হল যখন প্রাইস ২টি পিভট পয়েন্টের মধ্যে আঁটকে থাকে, অর্থাৎ ২টি লাইনের মধ্যেই বারবার ঘুরতে থাকে। নিচের চার্টটি দেখুনঃ

যতবার প্রাইস পিভট পয়েন্টকে হিট করে, কিন্তু ব্রেক না করে ফিরে যায়, পিভট পয়েন্ট তত শক্তিশালী হয়। যদি প্রাইস দিনে কোন পিভট পয়েন্টকে ৫ বার হিট করে, কিন্তু ব্রেক না করে, তবে বুঝতে হবে পিভট পয়েন্টটি অনেক শক্তিশালী। কিন্তু প্রাইস যদি পিভট পয়েন্টকে ১ বার হিত করে, তবে রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং ট্রেডিং করার জন্য আপনি আরও ১ বার ঐ পিভট পয়েন্ট হিট করার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।
আপনি যদি কোন চার্ট দেখতে থাকেন এবং দেখেন যে প্রাইস কমপক্ষে ২ বার পিভট পয়েন্টকে হিট করেছে কিন্তু ব্রেক না করে বিপরীত দিকে ফিরে গেছে, তাহলে আপনি রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং করার কথা ভাবতে পারেন।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১২]

ট্রেন্ড লাইন

টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের সবচেয়ে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি টুলস হল ট্রেন্ড লাইন। ট্রেন্ড লাইন সহজেই বোঝা যায়। ট্রেন্ড লাইন যদি সঠিকভাবে আকা যায় তবে তা অন্য যেকোনো মেথড থেকে ভাল ফলাফল দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ট্রেডার সঠিকভাবে ট্রেন্ড লাইন আঁকতে পারে না এবং জোর করে ট্রেন্ড লাইন আকে জার ফলে তা কার্যকর হয় না।
ট্রেন্ড লাইন আঁকার জন্য মেটা ট্রেডার এর টুলস থেকে ট্রেন্ড লাইন টুল দিয়ে লাইন টানতে হয়।
লো পয়েন্টগুলো একটি ট্রেন্ড লাইনের মাধ্যমে কানেক্ট করতে হয় এবং হাই পয়েন্টগুলো একটি ট্রেন্ড লাইনের মাধ্যমে কানেক্ট করতে হয়।
যদি কোন ক্যানডেল ট্রেন্ড লাইন ক্রস করে ওপরে বা নিচে চলে যায়, তখন বুঝতে হবে ট্রেন্ড লাইন ব্রেক হয়েছে।
নিচের চার্টটি ফলো করুনঃ

ট্রেন্ড ৩ রকমঃ
  • আপট্রেন্ড (higher lows)
  • ডাউনট্রেন্ড (lower high)
  • সাইডওয়ে ট্রেন্ড (ranging)
আপট্রেন্ডে মার্কেট ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তাই আপনি বাই করতে পারবেন। ডাউনট্রেন্ডে মার্কেট নিম্নমুখী থাকে। তাই আপনি সেল করতে পারবেন। সাইডওয়ে ট্রেন্ডে মার্কেট একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ঘুরতে থাকে। তাই সাইডওয়ে ট্রেন্ডে ট্রেড না করাই ভাল।
ট্রেন্ড লাইন সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্যঃ
  • অন্তত ২টি টপ (top) অথবা বটম (bottom) পয়েন্ট সংযুক্ত করে ট্রেন্ড লাইন আঁকতে হয়। তবে ৩টি পয়েন্ট হলে ট্রেন্ড লাইন কনফার্ম হয়।
  • সাপোর্ট এবং রেসিসট্যান্স লাইনের মত যতই প্রাইস ট্রেন্ড লাইনগুলোকে টেস্ট করবে, ট্রেন্ড লাইনগুলো তত শক্তিশালী হবে।
  • জোর করে ট্রেন্ড লাইন আঁকার চেষ্টা করবেন না যদি। সেক্ষেত্রে তা ভ্যালিড ট্রেন্ড লাইন হবে না।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১১]

আজ থেকে শুরু হল টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস। যা শিখবেন তা সাথে সাথে চার্টে অ্যাপ্লাই করবেন, দেখবেন বুঝতে সুবিধা হবে।

সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স

আপনি যদি সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স বুঝতে পারেন তবে আপনি বুঝতে পারবেন ফরেক্স মার্কেট কিভাবে কাজ করে।
এই পদ্ধতি আপনাকে সঠিক সময়ে ট্রেড খুলতে এবং ঠিক সময়ে ট্রেড থেকে আপনাকে বের হয়ে আসতে আপনাকে সাহায্য করবে।
বিভিন্নভাবে সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স লেভেল বের করা যায়।
যখন মার্কেট সাপোর্ট লেভেল একবার ব্রেক করে যায়, সাধারণত প্রাইস আরও কমে যায় এবং পরবর্তী রেসিসটেন্স লেভেল তখন সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে।
আবার যখন মার্কেট রেসিসটেন্স লেভেল একবার ব্রেক করে যায়, সাধারণত প্রাইস আরও বেড়ে যায় এবং পরবর্তী সাপোর্ট লেভেল তখন রেসিসটেন্স হিসেবে কাজ করে।
তাই সাপোর্ট ব্রেক করলে সেল করা উচিত এবং রেসিসটেন্স ব্রেক করলে বাই করা উচিত।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
উপরের ছবিটি দেখুন। এখানে একটি জিগজ্যাগ প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে।
ধরুন মার্কেট আপট্রেন্ডে রয়েছে। এখানে মার্কেট সর্বোচ্চ বাড়ার পর যে প্রাইসে আবার তা কমে যেতে শুরু করে সেটাই রেসিসটেন্স।
অর্থাৎ, বেড়ে যাওয়ার পর সর্বোচ্চ পয়েন্টটিই হল রেসিসটেন্স লেভেল।
আবার কমে সর্বনিম্ন যত নিচে যায়, সেই পয়েন্টটি হল সাপোর্ট লেভেল।
মার্কেট ডাউনট্রেন্ডে থাকলেও একইরকম।

সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স নির্ধারণ

একটি বিষয় মনে রাখবেন যে সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স কখনও কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়। এটি এক ধরনের লেভেল বা এরিয়া।
অনেক সময় চার্ট দেখে মনে হয় যে মার্কেট সাপোর্ট বা রেসিসটেন্স ব্রেক করেছে কিন্তু কিছুক্ষণ পর বোঝা যায় যে মার্কেট আসলে সাপোর্ট বা রেসিসটেন্স ব্রেক হয়নি, মার্কেট শুধুমাত্র টেস্ট করেছে।
ক্যানডেলস্টিক চার্টে এই মার্কেট টেস্টসমূহকে এভাবে দেখান যেতে পারেঃ
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
চার্টটি দেখুন। দেখা যাচ্ছে মার্কেট ২ বার ১.৪৭০০ সাপোর্ট লেভেল ব্রেক করেছে।
কিন্তু মার্কেট সাথে সাথেই আবার ওপরে উঠে গেছে অর্থাৎ সাপোর্ট লেভেল আসলে ভাঙ্গেনি।
মার্কেট শুধুমাত্র টেস্ট করেছে।

তাহলে কিভাবে বুঝবেন যে সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স লেভেল সত্যিই ব্রেক হয়েছে?

ক্যানডেল যদি সাপোর্ট লেভেলের নীচে বা রেসিসটেন্স লেভেলের ওপরে ক্লোজ হয়, তবে লেভেল ব্রেক হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।
কিন্তু এটা যে সবসময় হয় তা নয়।
নিচের চার্টটি দেখুন। প্রাইস ১.৪৭০০ এর অনেক নিচে গিয়েছে। কিন্তু পরে আবার বেড়ে গিয়েছে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
কিন্তু সাপোর্টটি আসলে ব্রেক হয়নি। এটি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে এবং অনেক শক্তিশালী। এখন যদি আপনি আপনার বাই ট্রেড ক্লোজ করে সেল ট্রেড দিতেন, হয়ত আপনি লসের সম্মুক্ষীণ হতেন।
আপনি যদি প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করেন তবে আপনি সহজেই সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স নির্ধারণ করতে পারবেন।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে

সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স সম্পর্কে কিছু তথ্য

  • যখন মার্কেট রেসিসটেন্স লেভেল একবার ব্রেক করে যায়, পরবর্তী সাপোর্ট লেভেল তখন রেসিসটেন্স হিসেবে কাজ করে। আবার যখন মার্কেট সাপোর্ট লেভেল একবার ব্রেক করে যায়, পরবর্তী রেসিসটেন্স লেভেল তখন সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে
  • মার্কেট সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স লেভেল যত বেশি টেস্ট করে, ঐ সাপোর্ট বা রেসিসটেন্স তত বেশি শক্তিশালী হয়।

সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স ইন্ডিকেটরঃ

সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স নির্ধারণ করার জন্য আপনি পিভট পয়েন্ট ইন্ডিকেটর ইউজ করতে পারেন। সেখানে আপনি চার্টেই S1, S2, S3/ R1, R2, R3 ইত্যাদি দেখতে পারবেন। পিভট পয়েন্ট নিয়ে টিউন পরবর্তীতে আসবে। আপনি সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স নির্ধারণের জন্য নিচের ইন্ডিকেটর এবং টেমপ্লেট ব্যবহার করতে পারেন। এটা একটু মডিফাইড ইন্ডিকেটর। b clock ইন্ডিকেটর আপনাকে ক্যানডেল শেষ হতে কত সময় বাকি তা জানাবে। টেমপ্লেট অ্যাড করলেই ইনফোগুলো চলে আসবে।
২টি ইন্ডিকেটর এবং ১টি টেম্পলেট দেয়া হল। ডাউনলোড করে নিন।
ইন্ডিকেটর (.ex4) ২টি আপনার মেটাট্রেডার সফটওয়্যারের ফোল্ডারের experts > indicator ফোল্ডারে এবং টেম্পলেটটি (.tpl) মেটাট্রেডার সফটওয়্যারের ফোল্ডারের templetes ফোল্ডারে রেখে মেটাট্রেডার প্লাটফর্মটি রিস্টার্ট করুন।
চার্টে right click করে templetes > bdpips_pivot_points টেম্পলেটটি সিলেক্ট করুন।

সংযুক্ত ফাইল

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-১০]

নিউজ ট্রেডিং

ফরেক্সে প্রায় প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিউজ রিলিজ হয়। আপকামিং নিউজ গুলো বিভিন্ন ব্রোকারের Economic Calender সেকশনে পাওয়া যায়। নিউজ রিলিজ হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্টান সার্ভে করে কোন নিউজ কিরকম আসতে পারে তার একটা পূর্বাভাষ ভ্যালু (forecast) তৈরি করে। এসব প্রতিষ্টানে bloomberg, cnbc এর মত বড় বড় বিজনেজ নিউজ এজেন্সী থাকে। এই forecast ভ্যালুর চেয়ে actual খারাপ আসা মানে ঐ দেশের ইকোনমি খারাপ করছে , আর ঐ ভ্যালু থেকে ভাল করা মানে ঐ দেশের ইকোনমি ভাল করছে। নিউজ আসার সাথে সাথে প্রাইসের প্রচুর উঠানামা করবে। ফান্ডামেন্টাল থিওরী অনুযায়ী কোন দেশের ইকোনমি ভাল করছে এই খবর আসলে সাথে সাথে ঐ দেশের মুদ্রা বাড়তে থাকবে আবার ঐ দেশের ইকোনমি খারাপ করছে খবর আসলে উল্টা ঘটবে।
যারা স্কালপিং করেন তাদের জন্য নিউজ ট্রেডিং আশীর্বাদস্বরুপ কারণ নিউজ রিলিজ হওয়ার ৫-১০ মিনিটেই ৩০-৫০ পিপস মুভ হতে পারে। সেটা নির্ভর করে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ নিউজ সেটার উপরে।
attachment file এ দেখুন কোন দেশের কোন কোন নিউজে কত পিপ মুভমেন্ট হতে পারে এবং কত টুকু চেঞ্জে নিউজ ফিগার আসলে সেটা ট্রেড করা যায়।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
Tradable Figure হচ্ছে ঐ নিউজের forecast থেকে কতটুকু চেঞ্জে actual figure আসলে সেটা ট্রেড করার যোগ্য। মনে রাখবেন উপরের ট্রেডেবল ফিগারটা হচ্ছে একেবারে মডারেট ফিগার। মানে অতটুকু একচুয়াল ভ্যালু চেঞ্জ হলে প্রাইস অবশ্যই মুভ করবে। কিন্তু বাস্তবে ট্রেড করার জন্য অতটুকু চেঞ্জ দরকার হয় না । কিছুটা কম চেঞ্জ হলেও সমস্যা নেই। যেমন us Nonfarm payroll হচ্ছে অনেক স্পর্শকাতর একটা নিউজ। এটার ট্রেডেবল ফিগার দেয়া আছে 70K ডিফারেন্সে। কিন্তু 70K ডিফারেন্স না হয়ে কম হলেও প্রাইস প্রচুর মুভ করবে।
Movement range হচ্ছে কত পিপস মুভ হতে পারে। পক্ষে আসলে প্রাইস বাড়বে আর বিপক্ষে আসলে প্রাইস কমবে।
বিভিন্ন ব্রোকার নিউজ রিলিজের সময় স্প্রেড বাড়িয়ে দেয় কারণ ঐ মুহূর্তে মার্কেটে volatility বেশি থাকে। তাই আপনার একাউন্ট ফিক্সড স্প্রেড না হলে স্প্রেড বেশি দেখলে অবাক হবেন না। Requotes হতে পারে যদি আপনার ব্রোকার market maker হয়। আবার মাঝে মাঝে প্লাটফর্ম হ্যাং হয়ে যেতে পারে। আবার ট্রেড ওপেন হয়ে গেলেও শো না করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি পুনরায় ট্রেড ওপেন করে ফেললে পরে দেখবেন ২টা ট্রেড। আবার বাংলাদেশের বিদ্যুতের যে অবস্থা নিউজ রিলিজে ট্রেড ওপেন করার পর যদি বিদ্যূত চলে যায় তাহলে কি করবেন সেটাও ভেবে রাখবেন। কারণ নিউজ রিলিজের পর একচুয়াল ভ্যালু যা আসে তা মাঝে মাঝে সংশোধন হয় যাকে Revise বলে। যেমন ইউএস এর jobless claims আসল প্রচুর। jobless claims প্রচুর আসা মানে আমেরিকায় চাকরি সঙ্কট প্রচুর। মানে আমেরিকার ইকোনমি খারাপ অবস্থায় আছে। আপনি eur/usd বাই দিলেন। পরে revised figure আসল যে আসলে ততটুকু খারাপ নয়। তখন মার্কেট সাথে সাথে ইউ টার্ন করবে। সেসময় আপনাকে স্ক্রিনের সামনে থাকতে হবে যাতে কোন অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা থেকে বাচা যায়। তাই নিউজ ট্রেডিংয়ে হাইয়েস্ট সতর্কতা পালন করবেন।
নিউজ ট্রেডিংয়ে স্টপ লস ব্যবহার করবেন না কারণ মার্কেট মাঝে মাঝে নিউজ রিলিজ হওয়ার পরও সামান্য বিপরীত দিকে যেতে পারে যেটা spike হয়ে ফিরে আসে। আপনি স্টপ লস দিলে ঐখানে আপনার ট্রেড লসে ক্লোজ হয়ে যাবে।
নিউজ ট্রেডিং রিয়েল একাউন্টে করার আগে ডেমো ট্রেড করে নিবেন market volatility আপনি কতটুকু ভালভাবে handle করতে পারছেন দেখবেন।
লেখকঃ Pipsodent

নিউজ কিভাবে বুঝবেন?

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করবো। কিন্তু কিছুই তো বুঝিনা। নিউজ দেখে এর প্রাইসের মুভমেন্ট থেকে মেন্টাল হয়ে যাচ্ছি।
ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস - করলেও প্যারালাইসিস, না করলেও প্যারালাইসিস।


আমরা আপনাকে কিছু বেসিক জিনিস বোঝার জন্য সাহায্য করতে পারি।

এই স্ক্রীনশটটি দেখুনঃ
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
প্রথমে আমরা Formula টি দেখবো।
Halifax HPI m/m এই নিউজের ক্ষেত্রে Formula হলঃ
Actual > Forecast = Good for currency

এখন আমরা জানবো Actual, Forecast এবং Previous কি?
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
এই স্ক্রীনশটে দেখুন Previous 0.2%. তারমানে হল এর আগে যখন নিউজটি পাবলিশ হয়েছিল, তখন রেসাল্ট (actual) এসেছিল 0.2%.
Forecast দিয়ে বোঝায় এবার ধারনা করা হচ্ছে যে নিউজটির রেসাল্ট 0.5% আসতে পারে। আর Actual হল এবার যে ফলাফল আসবে।
Actual এ এবার যে ফলাফল আসবে, তা পরবর্তী নিউজে Previous হিসেবে গণ্য হবে।

এখন আমরা আবার আমাদের ফরমুলায় ফিরে আসি। এখানে বলা হয়েছে, Actual > Forecast = Good for currency.
এটা GBP বিষয়ক নিউজ। তারমানে এবারের Actual এর ফলাফল Forecast (0.5%) থেকে বেশী হলে তা GBP এর জন্য ভাল।
আর যদি Actual এর ফলাফল Forecast থেকে খারাপ আসে, তবে তা GBP এর জন্য খারাপ।

এখানে এবার Actual এসেছে -1.2%. তারমানে Actual < Forecast. তারমানে Bad for currency (GBP).
সুতরাং, এখানে এই ফরমুলা কাজ করবে,

Actual > Forecast = Good for currency
Actual < Forecast = Bad for currency

এখানে, GBP এর Bad for currency আসায় GBP এর জন্য খারাপ নিউজ। তাই GBP এর পেয়ারগুলোতে এর ইফেক্ট পড়বে। যেমন, GBPUSD কমতে পারে, EURGBP বাড়তে পারে ইত্যাদি। কিন্তু সবসময় যে নিউজ এর ইফেক্ট হয় তা কিন্তু নয়, অনেক সময় বিপরীত ইফেক্টও হয়ে থাকে।

নিউজ ইম্প্যাক্ট

প্রতিদিন ফরেক্সের অনেক নিউজ, জব রিপোর্ট, স্পিচ প্রকাশিত হয়। এগুলো মার্কেটকে প্রভাবিত করে। তাই অনেকেই এই নিউজগুলো টার্গেট করে ট্রেড করে। কিন্তু আমাদের কি সব নিউজই ট্রেড করা উচিত? সব নিউজের প্রভাব বা ইম্প্যাক্ট সমান নয়। দেখা যাক কি কি ধরনের নিউজ আসে।

ফরেক্সের নিউজের জন্য সবাই প্রধানত FOREXFACTORY.COM অনুসরন করে থাকে। কারন তারা সবচেয়ে ভাল নিউজ প্রকাশ করে থাকে এবং সবার আগে প্রকাশ করে। আপনি সেখানে প্রতিটি নিউজের পাশে ওপরের ৪টি চিহ্নের একটি দেখতে পাবেন। সুতরাং, চিহ্ন দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন ওই নিউজের প্রভাব কি হবে এবং সে অনুসারে ট্রেড করতে পারবেন। হাই ইম্প্যাক্ট নিউজ দ্বারা বোঝায় যে তা মার্কেটে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। মিডিয়াম ইম্প্যাক্ট নিউজগুলোর প্রভাব তুলনামূলক কম হয়। লো ইম্প্যাক্ট নিউজগুলোর প্রভাব একেবারেই কম। সাদা চিহ্ন দিয়ে বোঝায় এই নিউজটি ইকোনমিক নিউজ নয়, যেমন- ব্যাংক হলিডে। যেহেতু লাল হাই ইম্প্যাক্ট এবং কমলা মিডিয়াম ইম্প্যাক্ট নিউজগুলো মার্কেটে বেশী প্রভাব ফেলে, তাই আপনি সেগুলো ট্রেড করতে বা সেগুলো মার্কেটে কি রকম প্রভাব তৈরি করতে পারে তা জেনে রাখতে পারেন।

ওপরের ছবিতে দেখুন। ECB President Trichet Speaks এবং Manufacturing Production m/m এই নিউজ ২টি হাই ইম্প্যাক্ট নিউজ। এগুলো মার্কেটকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। BOJ Monthly Report হল মিডিয়াম ইম্প্যাক্ট নিউজ। Household Confidence এবং Economy Watchers Sentiment হল লো ইম্প্যাক্ট নিউজ, যার প্রভাব মার্কেটে খুব একটা বেশী হবে না।

কোন নিউজ কোন কারেন্সিকে প্রভাবিত করে

প্রতিটি নিউজের সামনে লেখা থাকে নিউজটি কোন কারেন্সির জন্য। যেমনঃ RBA Assist Gov Debelle Speaks নিউজটির রেজাল্ট ভাল বা খারাপ আসলে তা AUD পেয়ারকে প্রভাবিত করবে। আবার French CPI m/m নিউজটির রেজাল্ট EUR পেয়ারকে প্রভাবিত করবে।

টিপস এন্ড ট্রিকস

কাস্টোমাইজড নিউজ
আপনার যদি Forex Factory তে নির্দিষ্ট কিছু নিউজ দেখতে চান তবে ওপরে কর্নার থেকে "Filter" ক্লিক করে আপনার পছন্দমত কনফিগারেশন থিক করে দিতে পারেন।

নিউজ টাইম
Forex Factory এর সাথে হয়তো আপনার কম্পিউটারের সময় মিলছে না। তাই আপনার নিউজ বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে এবং কখন নিউজটি পাবলিশ হবে বুঝতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে Forex Factory এর অপরে বামপাশে কর্নার থেকে বর্তমানে সে সময় দেখাচ্ছে তাতে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেইজে Time Zone: GMT +6 সেট করে "Save Changes" ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।

দেখবেন এরপর থেকে বাংলাদেশী সময়ে নিউজ এর সময় দেখাবে।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-০৯]

মার্কেট অ্যানালাইসিস

প্রাইস বাড়বে কি কমবে তা জানার জন্য আপনাকে অ্যানালাইসিস করতে হবে। অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে আপনি ট্রেড করার সঠিক আইডিয়া পেতে পারেন। অ্যানালাইসিস মূলত ৩ প্রকারঃ
  • ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস (Fundamental Analysis)
  • টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস (Technical Analysis)
  • সেন্টিমেন্টাল অ্যানালাইসিস (Sentimental Analysis)
আপনি প্রশ্ন করতে পারনে কোন ধরনের অ্যানালাইসিস ভাল? কিন্তু ৩ ধরনের অ্যানালাইসিসই গুরুত্বপূর্ণ।
এটা অনেকটা ৩ পা-ওয়ালা একটি টুলের মত। যদি এর কোন একটি পা ভেঙ্গে যায়, তাহলে টুলটি ভেঙ্গে যাবে এবং আপনিও মাটিতে পড়ে যাবেন। ফরেক্সের ক্ষেত্রেও আপনার কোন একটি অ্যানালাইসিস যদি দুর্বল হয়, তবে তা আপনার ব্যাপক লসের কারন হতে পারে। তাই সব ধরনের অ্যানালাইসিসই জরুরি।

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস

অর্থনৈতিক, সামাজিক অথবা রাজনৈতিক ইত্তাদির ওপর ভিত্তি করে যে অ্যানালাইসিস করা হয় তাই ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস।
ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসে আপনাকে লক্ষ্য করতে হবে যে কোন দেশের অর্থনীতি ভাল করছে এবং কোন দেশের অর্থনীতি খারাপ দিকে যাচ্ছে। বেকারত্বের পরিমান বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ইভেন্ট কিভাবে কেন এবং কিভাবে দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখে এই সকল বিষয় গুলো ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসে আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কোন দেশের বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভাল হয়, তবে ঐ দেশের কারেন্সি শক্তিশালী হবে। একটি দেশের অর্থনীতি যত ভাল হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারিরা তত ঐ দেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। সুতরাং তাদের ঐ দেশের কারেন্সি কিনতে হবে এবং ঐ দেশের কারেন্সির ভ্যালু আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের অরথনিইতিক অবস্থা যদি আরও ভাল হত তবে আরও বিদেশি বিনিয়গকারি এই দেশে বিনিয়োগ করতে ও ব্যবসা সম্প্রসারন করতে আগ্রহী হত। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের টাকার ভ্যালু অনেক বেরে জেত। অন্যান্য কারেন্সির ক্ষেত্রেও একই রকম।
এক কথা ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস হলঃ

  • দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল = কারেন্সির ভ্যালু বেশী
  • দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ = কারেন্সির ভ্যালু কম
ধরা যাক ইউ. এস. ডলার শক্তিশালী হচ্ছে কারন আমেরিকার অর্থনীতি আগের থেকে ভাল করছে। তাহলে তাদের মুদ্রাস্ফীতি (inflation) নিয়ন্ত্রন করার জন্য ইন্টারেস্ট রেট বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
অধিক ইন্টারেস্ট রেট ডলার নির্ভর অর্থনৈতিক সম্পদগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই কেউ যদি ঐসব সম্পদ কিনতে চায় বা বিনিয়োগ করতে চায়, তবে প্রথমে তাদের ডলার কিনতে হবে। আর তার ফলেই ডলারের ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে।
পরবর্তীতে ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের অন্য আর্টিকেলগুলোতে আপনি জানতে পারবেন বিভিন্ন নিউজ, তাদের ইফেক্ট এবং কিভাবে সেগুলো বুঝে ট্রেড করতে হয় এই সম্পর্কে।

টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস

টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসে ট্রেডাররা প্রাইসের মুভমেন্টের ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করে।
মুল বিষয় হল একজন ট্রেডার পূর্বের প্রাইস মুভমেন্ট দেখতে পারে, বর্তমানের প্রাইস মুভমেন্ট বুঝতে পারে এবং ভবিষ্যতের প্রাইস কেমন হবে সে সম্পর্কে ধারনা অর্জন করতে পারে।
আপনার চার্টে পূর্বের সকল প্রাইসের মুভমেন্ট চার্ট আকারে দেয়া থাকবে। তাই আপনি চাইলেই পূর্বে কি হয়েছিল তা দেখতে পারবেন। আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, "ইতিহাস বারবার প্রতিফলিত হয়"?
টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এমনই। পূর্বে যা ঘটেছিল, আমরা আশা করেতে পারি হয়তো ভবিষ্যতেও তাই ঘটতে পারে। যদি কোন প্রাইস লেভেল পূর্বে সাপোর্ট বা রেসিসটেন্স হিসেবে কাজ করে থাকে, তবে ট্রেডারদের চোখ থাকবে সেই দিকে এবং তারা তার ওপর ভিত্তি করে তাদের ট্রেড করবে।
টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে আমরা একই প্যাটার্ন মেলানোর চেষ্টা করি যা পূর্বে ঘটেছিল। এবং যেহেতু তা পূর্বে ঘটেছিল, তাই আমরা আশা করবো এবারও হয়ত আগের মত একই জিনিস ঘটতে পারে।

কেউ যখন টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস কথাটি বলে, তখন আমাদের মনে সর্বপ্রথম যে কথাটি আসে তা হল চার্ট। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসে চার্ট ব্যবহার করা হয় কারন চার্টের মাধ্যমেই হিস্টোরিকাল ডাটা সবচেয়ে সহজে উপস্থাপন করা যায়।
আপনি ট্রেন্ড এবং প্যাটার্ন বোঝার জন্য চার্টে পূর্বের ডাটাগুলো দেখতে পারেন যা কিনা আপনাকে কিছু ভাল ট্রেডের সুযোগ এনে দিতে পারে। প্রাইস প্যাটার্ন, ইন্ডিকেটরের সিগন্যাল আপনাকে মার্কেট সম্পর্কে ভাল আইডিয়া পেতে সাহায্য করতে পারে।
টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস বিষয়টা নির্ভর করে আপনি কিভাবে অ্যানালাইসিস করবেন।
জনি এবং রনি হয়তো একই চার্ট এবং ইন্ডিকেটর দেখে অ্যানালাইসিস করবে, কিন্তু তারা হয়তো একই রকম ট্রেডের আইডিয়া পাবে না, ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডের আইডিয়া পেতে পারে।
আসল কথা হল আপনাকে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মূল কনসেপ্ট ভালভাবে জানতে হবে। আমাদের ফিবোনেসি, বোলিঙ্গার ব্যান্ড, পিভট পয়েন্ট, মুভিং এভারেজ ইত্যাদির কাজ সম্পর্কে জানতে হবে।
এখন হয়তো আপনি ভাবছেন যে ফরেক্স ট্রেডাররা অনেক স্মার্ট। তারা ফিবোনেসি, বোলিঙ্গার ব্যান্ডের মত স্মার্ট নাম জানে। যেহুতু আপনি ফরেক্স ট্রেড শুরু করেছেন, তাই হয়তো আপনি ইতিমধ্যে ফেসবুকে আপনার নাম পরিবর্তন করে এখন ফিবোনেসি তানভীর কিংবা বোলিঙ্গার রাহাত রাখার কথা চিন্তা করা শুরু করে দিয়েছেন।
পরবর্তীতে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের বিভিন্ন ইন্ডিকেটর, সাপোর্ট-রেসিসটেন্স, পিভট পয়েন্ট ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-০৮]

ফরেক্সে লসের কারন

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন, অথবা আগে শুনে না থাকলে শুনে রাখুন ফরেক্সে ৯৫% ট্রেডার লস খায়। পরিসংখ্যানটি হয়তো পুরোপুরি সত্য নয়। আসলে ৯৫% ট্রেডার নয়, ৯৫% বিগেনার ট্রেডাররা লস করে। কিন্তু কেন? কারন তারা ফরেক্সের বেসিক রুলস গুলো মেনে চলে না। দেখা যাক কি কি কারন ট্রেডাররা ফরেক্সে লস করে।
  • অভিজ্ঞতার অভাবঃ প্রথম দৃষ্টিতে ফরেক্স কিন্তু সহজ মনে হয়। কারন যেহুতু লাভ অথবা লস, আন্দাজে ট্রেড করে অনেকেই প্রচুর লাভ করে ফেলে। তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে রিয়েল ট্রেডিং করবে। কিন্তু আপনি লস না করলে কখন বুঝতে পারবেন না যে কিভাবে আপনি ঐ সকল অবস্থাগুলো পরে মোকাবেলা করবেন। সেজন্য আপনাকে অনেকদিন সিরিয়াসলি ডেমোতে ট্রেড করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ডেমোতে এত সময় ট্রেড করতে চায় না। সে ক্ষেত্রে সেন্ট অ্যাকাউন্টে ট্রেড করতে পারেন। ধরে রাখুন ফরেক্সে আপনার প্রথম ২টি ডিপোজিট আপনি হারাবেন। বুঝে ট্রেড করার চেষ্টা করুন। দেখবেন তখন ট্রেডিং অনেকটা সহজ লাগবে।
  • সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীলতাঃ অধিকাংশ ট্রেডার সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীল। বন্ধুদের কথায় বা অপরিচিত লোকের কথায় ট্রেড করে। নিজে কোন অ্যানালাইসিস না করে কেউ বাই করতে বললেই বাই করে, সেল করতে বললে সেল করে। পরিনামে লস। আবার কেউ কেউ তো $১০০-$২০০ দিয়ে সিগন্যালও কিনে থাকেন। কিন্তু একটা কথা ভাবুন, যদি সিগন্যাল গুলো আসলেই সবসময় পারফেক্ট হত, তাহলে কেন সিগন্যাল প্রভাইডার তা বিক্রয় করছে? সে নিজে ট্রেড করেই তো বিল গেটস হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, কারো কোন কথা শুনে বা চার্ট দেখে ঝোঁকের বসে ট্রেড করবেন না। নিজে যা বুঝেন, তা দিয়ে ট্রেড করার চেষ্টা করুন। আরও শেখার চেষ্টা করুন। অন্যদের জিজ্ঞেস করুন।
  • উদ্দেশবিহীন ট্রেডিং করাঃ অধিকাংশ ট্রেডার জানে না যে বাই করতে হবে না সেল করতে হবে। প্রাইস একটু বেড়ে গেলেই তারা মনে করে যে এটা আবার কমবে, তখন সেল ট্রেড দিয়ে বসে। এভাবে ট্রেড করলে আজীবনই লস খাবেন। মার্কেট অ্যানালাইসিস করতে চেষ্টা করুন। বিডিপিপস ফরেক্স স্কুলের ইন্ডিকেটর সেকশনে দেখুন কিছু বেসিক ইন্ডিকেটর সম্পর্কে দেয়া আছে। এগুলো এবং সাথে অন্য ইন্ডিকেটর নিয়ে গবেষনা করুন। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের কিছু কিছু জিনিস শেখার চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে সব কিছুই আপনার কাছে সহজ হয়ে যাবে।
  • বড় রিস্ক নিয়ে ট্রেড করাঃ অধিকাংশ মানুষ ফরেক্সকে মানি মেকিং মেশিন মনে করে। মনে করে ফরেক্সে ১ দিনেই ব্যালেন্স দ্বিগুণ করা যায়। অধিকাংশ ট্রেডার তার ক্যাপিটালের অনুপাতে অনেক বড় রিস্ক নিয়ে ট্রেড করে। দেখা যায় অ্যাকাউন্টে $১০০ আছে, কিন্তু $১ পিপস ভ্যালুর ট্রেড ওপেন করে বসে আছে। ১০০ পিপস আপনার বিপরিতে মুভ করলেই আপনি ফকির হয়ে যাবেন। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিন, মানি ম্যানেজমেন্ট করতে শুরু করুন।
  • ট্রেডিং স্ট্রাটেজি না থাকাঃ আপনার অবশ্যই একটি ট্রেডিং স্ট্রাটেজি থাকা উচিত। আপনি কিভাবে ট্রেড করবেন, কত পিপস স্টপ লস বা টেক প্রফিট ব্যবহার করবেন, কত ভলিউমে ট্রেড করবেন সবকিছু আগে থেকেই সেট করে রাখা উচিত। এবং আপনার সব ট্রেডেই তা ফলো করা উচিত। তা নাহলে দেখা যাবে একটি ট্রেডে আপনার প্রফিট ৫০ পিপসে $৫, আরেকটি বড় রিস্ক নিয়ে করা ট্রেডে লস ৫০ পিপসে $৫০. তাই সবার প্রথমে আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি তৈরি করুন। অন্যদের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি দেখুন, তারপর যেটা ভাল লাগে, পরিবর্তন করে নিজের পছন্দমত নিজের ট্রেডিং সিস্টেম তৈরি করুন।
  • নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকাঃ অনেক ট্রেডার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকে। তারা মনে করে প্রাইস এখন বাড়বে বা কমবে এবং সেই অনুসারে ট্রেড করে কোন প্রকার অ্যানালাইসিস ছাড়া। কিন্তু মানুষই মানুষের শত্রু। নিজেকে বিশ্বাস করবেন না। মার্কেট কি বলে তা দেখুন।
কিছু কিছু ব্যাপারে ট্রেড করার সময় সতর্ক থাকবেনঃ
  • লোভ করবেন না
  • ইমোশনাল হবেন না
  • নিজের মনগড়া সিদ্ধান্তে ট্রেড করবেন না
  • মানি ম্যানেজমেন্ট ফলো করে ট্রেড করবেন
  • ট্রেডিং স্ট্রাটেজি মেনে চলবেন
  • অ্যানালাইসিস ছাড়া কোন ট্রেড করবেন না

একজন ফরেক্স ট্রেডারের আত্মকাহিনী

অয়ন একজন ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি নেটে টুকটাক কাজ করে। সে অনেক দিন থেকেই ফরেক্সের কথা শুনেছে, কিন্তু কোন বিস্তারিত আইডিয়া নেই। অনেক জায়গায় বিজ্ঞাপন দেখেছে $১০০ ডিপোজিট করলে মাসে $১০০০ আয়ের নিশ্চয়তা। তাই সে সিদ্ধান্ত নিল সে ফরেক্স করবে।
ফরেক্স কিভাবে করা যায়? এক ব্লগে দেখল জাফর নামে একজন একটি ব্লগ পোস্ট করেছে "ফরেক্স শিখুন, আনলিমিটেড আয় করুন", তা দেখে তো অয়ন খুশী হল। ভাবল এবার তার কাছে নিশ্চয়ই ফরেক্স শেখা যাবে। পোস্ট থেকে জাফরের ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করল। জাফর বলল, ফরেক্স অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা অনেক এক্সপেরিয়েন্সড ট্রেডার। আমরা আপনাকে সিগন্যাল দিয়ে সাহায্য করব। আপনাকে আমাদের রেফারেল দিয়ে $১০০০ ডিপোজিট করতে হবে। আয়ন তারপর ডেমো অ্যাকাউন্ট ওপেন করল। ২-৩ দিন ট্রেড করে দেখল ভালই লাভ হচ্ছে। তারপর সে ভাবল এখন রিয়েল ট্রেড শুরু করে দেয়া দরকার। বড়লোক হবার আর বেশী দেরি নেই।
অনেক কষ্টে বাসা থেকে $১০০০ কেনার মত টাকা জোগাড় হল। ফরেক্সে $১০০০ ডিপোজিট করল জাফর ভাইয়ের আন্ডারে। ডিপোজিট করার পর জাফর ভাইকে ফোন করলে তিনি আর ধরছেন না। ডিপোজিট করা শেষ, এখন ফোন ধরার কি প্রয়োজন, অয়ন ট্রেড করলে তিনি তো কমিশন পাবেনই। আয়ন এরপর ভাবল নিজেই ট্রেড করবে। বেবিপিপস পড়ে এবং ইন্টারনেট থেকে সে শিখল সব সময় কোন রিস্ক নিয়ে ট্রেড করতে হবে, লোভ করা যাবে না, অ্যানালাইসিস করতে হবে। ভাবল এই জিনিস গুলো তো সে জানত না!!
শুরু হয়ে গেল আয়নের ট্রেডিং। প্রথম দিন ০.০১ স্ট্যান্ডার্ড লটে ১০ সেন্ট পিপস পিপস ভ্যালু দিয়ে একটি ট্রেড ওপেন করল। প্রথম ট্রেডেই ১০০ পিপস প্রফিট। $১০০০ থেকে $১০১০ হয়ে গেল। ২য় ট্রেডে আবার $১২ ডলার প্রফিট। ইন্ডিকেটর দেখে ট্রেড করছে, স্টপ লস, টেক প্রফিট ব্যবহার করছে। এভাবে ১০টা ট্রেড করল। ৩টা লস, ৭ টাতে প্রফিট। ৩ দিনে ব্যালেন্স এখন $১০৯৫।
নতুন চিন্তা আসলো আয়নের মাথায়। লাভ তো হচ্ছে। ০.০১-০.০২ লটে সে ট্রেড করছে এখন। লট সাইজ তা যদি একটু বাড়ানো যেত, লাভটা আরও বেশী আসতো। সবাই প্রতিদিন কয়েকশো ডলার লাভ করে আর সে কিনা মাত্র $৯৫ ডলার লাভ করেছে ৩ দিনে? এবার থেকে সে ০.০৫ লটে ট্রেড শুরু করে দিল। প্রথম ট্রেডেই $২৫ লস। ২য় ট্রেডে অবশ্য $৫০ লাভ হল। তারপরের ট্রেডে $৩০ ডলার। লাভ বেড়েই চলেছে। আয়ন এবার লট সাইজ ডাবল করে দিল। পার পিপস $১ করে। ১ দিনেই $২৩০ লাভ করে ফেলল। তারপরের ১ সপ্তাহে লাভ লস মিলিয়ে ব্যালেন্স $২৫০০ হয়ে গেছে। এখন আয়ন আরও বেশী রিস্ক নিয়ে ট্রেড করে। মাঝে মাঝে $৫ পিপস ভ্যালু দিয়েও স্ক্যাল্পিং করে। ৩ সপ্তাহের মাথায় আয়নের ব্যালেন্স $৩২০০ হল। আয়ন নিজের পারফরমেন্স নিয়ে সন্তুষ্ট। ফরেক্স অনেক সহজ, কে বলেছে এত অ্যানালাইসিস লাগে? বেড়ে গেলে সেল দিলেই হয়, আবার কমে গেলে বাই। সহজ!!!
NFP নিউজ। আয়ন ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করে না। স্টপ লসও ব্যবহার করে না। এইসব নিউজ গুলো কোন কাজে আসে না। বরং মার্কেটে যে ভোলাটিলিটি সৃষ্টি হয়, তাতে ভাল স্ক্যাল্পিং করা যায়। আয়ন ০.৫ লট ($৫ পিপস ভ্যালু) দিয়ে একটি ট্রেড ওপেন করলো EURUSD বাই। হঠাৎ স্পাইকের কারনে মার্কেট ৯০ পিপস পরে গেল। আয়নের যেহুতু এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞতা নেই, সে ভাবল নিশ্চয়ই মার্কেটে কিছু একটা হয়েছে। ভাবল প্রাইস তো একটু পরে বাড়বেই। সে ০.৫ লটে আরও একটি বাই ট্রেড ওপেন করল। মার্কেট এবার আরও পড়ছে। $৩২০০ থেকে আয়নের ইকুইটি এখন $১৫০০ ডলার। কি করবে বুঝতে পারছে না। যেহুতু প্রাইস কমছে, সে ভাবছে এতো তো কমার কথা না, একটু পরে প্রাইস আবার বাড়বে, তাই এখন যদি আরও ২টি ট্রেড ওপেন করা যায়, প্রাইস বাড়লে কম হলেও ব্যালেন্স $৫০০০ হয়ে যাবে। এবার ০.৫ লটে সে ২টি ট্রেড ওপেন করে দিব। প্রাইস একটু বাড়ল। দেখল ব্যালেন্স খুব দ্রুত রিকভার হচ্ছে। ইকুইটি এখন $২০০০ ডলার। সে কিছুটা আশান্বিত হল। হঠাৎ প্রাইস আরও ১০০ পিপস কমে গেল। আয়নের ৪টি ট্রেডই মারজিন কলের কারনে বন্ধ হয়ে গেল।

আয়নের ব্যালেন্স এখন $০.১০ মাত্র। নিজের কাজের কারনে সে অনুতপ্ত। কেন যে এট রিস্ক নিতে গেল? $৩২০০ থেকে যদি $১০০ আগে উইথড্র করে রাখতো। ইসস!!!
আবার ডিপোজিট করবে সে, একটু সাবধান হলে আর এটা হত না। পরবর্তীতে আরও সতর্ক থাকতে হবে তাকে। এবার $৫০০ কোনরকমে জোগাড় করল সে। ভাবল এবার একা ট্রেড করবে না, অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখল এখানে ফরেক্স শেখানো হয়। আয়ন সেখানে গিয়ে জায়েদ নামে এক ফরেক্স ট্রেডারের সাথে পরিচয় হল। তিনি নাকি অনেক অভিজ্ঞ ফরেক্স ট্রেডার, ৭ বছর থেকে ফরেক্স করেন, মাসে লাখ লাখ ডলার ফরেক্স থেকে লাভ করেন। তিনি বললেন, আমরা ফরেক্স সিগন্যাল দেই। মাসে ২৫০০ টাকা। ১০০% প্রফিট গ্যারান্টি। আয়ন ভাবল জায়েদ ভাইয়ের সাথে আগে কেন দেখা হলোনা? জায়েদ ভাই তাকে কিছু টেকনিক শিখিয়ে দিল। বলে দিল কখন স্টপ লস ব্যবহার না করতে। শুধু তারা যেভাবে বলে সেভাবে ট্রেড করতে হবে। আয়ন রাজি হল। আয়ন তার বন্ধু রাজকে বলল, দোস্ত আজ একজন জটিল ফরেক্স ট্রেডারের সাথে পরিচয় হল। জোশ ট্রেড করে। আমি এখন থেকে তার কাছ থেকে সিগন্যাল নিব। তার কাছে ভর্তি হয়েছি। রাজ বলল, যে মাসে লাখ লাখ ডলার আয় করে, সে কেন ২৫০০ টাকায় সিগন্যাল দেয়? তার কাছে তো ২৫০০ টাকা কোন টাকাই হবার কথা না। আয়ন এসব কথায় কান দিল না। রাত ৮ টায় জায়েদ ভাই ফোন দিয়ে বলল, ১.৪৬০০ তে একটা বাই দাও। EURUSD এবার ১.৫০০০ যাবে শিওর। আয়ন কথামত বাই দিল। সে মোটামুটি টেনশন ফ্রি। প্রোফেসনাল ট্রেডারের সিগন্যাল ফলো করছে, তার প্রফিট আর ঠেকায় কে? সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে EURUSD ১.৪৪৫২ তে। জায়েদ ভাইকে ফোন দিল, ভাই কি করব? জায়েদ ভাই বলল, এটা মার্কেটের সাধারন মুভমেন্ট, প্রাইস ১.৫০ তে যাবেই। তুমি বরং ওই প্রাইসে আরও ১টা বাই ট্রেড ওপেন করে রাখো আর আমার সিগন্যালের ওপর আস্থা রাখো। আর যদি ১.৪৩০০ তে যায়, তবে আরেকটা বাই করো। ২ দিন পর, প্রাইস ১.৪০৯৮ এ। জায়েদ ভাইয়ের সিগন্যালে আয়নের ব্যালেন্স আবার জিরো। আয়ন এখন আর ফরেক্স ট্রেড করে না।

ফরেক্স নিয়েই সবকিছু [পর্ব-০৭]

মানি ম্যানেজমেন্ট

মানি ম্যানেজমেন্ট হল এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ফরেক্স ট্রেডাররা তাদের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করে থাকে। ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য মানি ম্যানেজমেন্ট খুবই জরুরী। একটি ভাল মানি ম্যানেজমেন্ট আপনার অ্যাকাউন্টকে ব্যাঙ্কর‍্যাপ্টসি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। একটি ভাল মানি ম্যানেজমেন্ট ফলো করলে আপনার ক্যাপিটাল হারানোর সম্ভাবনা খুব কম।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
ভাল মানি ম্যানেজমেন্টের কিছু নিয়ম রয়েছেঃ
১. অ্যাকাউন্টের ছোট পার্সেনটেজ নিয়ে রিস্ক নিনঃ
অ্যাকাউন্টের ছোট পার্সেনটেজ রিস্ক নেয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ? এর কারন হচ্ছে আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখতে হবে। প্রথমে আপনার অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখতে হবে, তারপর প্রফিটের কথা ভাবতে হবে।
ভালো ট্রেডার তারাই যারা তাদের অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখতে পারে এবং এ ব্যাপারে সচেতন।
যদি আপনি কম রিস্ক নিয়ে ট্রেড করেন তবে কোন ট্রেডে আপনার লস অনেক বেশী হলেও চাইলে আপনি আপনার ট্রেডটিকে হোল্ড করতে পারবেন।
ট্রেডে আপনার অ্যাকাউন্টের মোট পার্সেনটেজের কম এবং বেশী রিস্ক নিয়ে ট্রেডের একটি উদাহরন নিচে দেখা যাক। দেখুন টানা ১০টি ট্রেডে লস আপনার অ্যাকাউন্টের কতটুকু ক্ষতি করতে পারে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে ২% রিস্ক এবং ১০% রিস্কের মধ্যে পার্থক্য। কেউ সহজে টানা ১০টি ট্রেড হারেনা। যদিও আপনি সবচেয়ে খারাপ ট্রেড করেন, তবুও ২% রিস্ক নিলে আপনি ১০টি ট্রেডে হারলে আপনি আপনার ক্যাপিটালের ১৭% হারাবেন, যেখানে প্রতি ট্রেডে ১০% রিস্ক নিলে আপনি ১০টি ট্রেড হারলে আপনি আপনার ক্যাপিটালের ৬০% এর বেশী হারাবেন। সুতরাং, বুঝতে পারছেন মানি ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব। আপনি যদি ঠিকভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট করতে না পারেন তবে আপনি ব্যাপক লসের সম্মুখিন হতে পারেন।
২. হারান ক্যাপিটাল পুনরুদ্ধার করা কঠিনঃ
কেউ যদি তার অ্যাকাউন্টের কিছু অংশ হারায়, তাহলে তা পুনরুদ্ধার করা কতটা কঠিন?
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
আপনি যদি আপনার অ্যাকাউন্টের ৫০% হারান, তাহলে আপনাকে লস রিকভার করতে আপনার নতুন ব্যালেন্সের ১০০% লাভ করতে হবে। আর যদি ৭৫% হারান, তবে নতুন ব্যালেন্সের ৩০০% প্রফিট করতে হবে শুধুমাত্র পূর্বের লস রিকভার করার জন্য। তাই আপনি যদি একবার বিরাট লস করে তারপর সেই লস রিকভার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে প্রফিট করবে কে?
এখানেই চ্যালেঞ্জ। চেষ্টা করে দেখুন ডেমো অ্যাকাউন্টে ৩০০% অথবা আপনার রিয়েল অ্যাকাউন্টে অন্তত ১০০% প্রফিট করতে পারেন কিনা। এটা অতটা সহজ হবেনা। মানি ম্যানেজমেন্ট এই জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ট্রেড করার আগে রিস্কঃরিওয়ার্ড রেশিও হিসাব করুনঃ
যখন একটি ট্রেডে লস করার সম্ভবনা প্রফিট করার থেকে বেশী, তখন ট্রেড করা থেকে বিরত থাকুন। সবসময় ট্রেড করতে হবে এমন কোন কথা নেই।
উদাহরনসরূপঃ
১. ৪০ পিপস লস vs ৩০ পিপস প্রফিট
২. ২০ পিপস লস vs ২০ পিপস প্রফিট
২টি উদাহরনই বাজে রিস্ক ম্যানেজমেন্টের উদাহরন।
একটি ট্রেড ওপেন করার আগে এটা নিশ্চিত করুন যে রিস্ক:রিওয়ার্ড রেশিও অন্তত ১:২ (১:৩ রেশিও বা এর থেকে বেশী ভাল)।
এর মানে হচ্ছে আপনার এমন একটি ট্রেডই ওপেন করা উচিত যেটাতে আপনার লস করার সম্ভবনা থেকে লাভের সম্ভবনা ততগুন হবে। যেমনঃ আপনি ৩০ পিপস লস করার পরিপেক্ষিতে ১০০ পিপস লাভ করতে পারবেন এমন ট্রেডে এন্ট্রি করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনি যদি মানি ম্যানেজমেন্টের এই রুলসটি সঠিকভাবে মেনে চলেন, তবে তা পরবর্তীতে আপনাকে সাফল্য পেতে এবং স্ট্যাবল প্রফিট পেতে সাহায্য করবে।
রিস্ক:রিওয়ার্ড রেশিওর নিচের চার্টটি দেখুন। এখানে ১:৩ রিস্ক:রিওয়ার্ড রেশিও নিয়ে ১০টি ট্রেড করা হয়েছে।
একজন যখন কোন ট্রেডে লস করে, তখন সে $১০০ ডলার হারিয়েছে। কিন্তু তার প্রতিটি প্রফিটেবল ট্রেডে সে $৩০০ ডলার প্রফিট করেছে।
ছবি পোস্ট করা হয়েছে
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে কোন ট্রেডার যদি ১:৩ রিস্ক:রিওয়ার্ড রেশিও নিয়ে যদি ৫০% ট্রেডেও সফল হয়, তবুও সে ভাল পরিমান লাভ করতে পারে।